ঢাকা ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড়ে জমি দখল করে মন্দির নির্মাণের অভিযোগ

পঞ্চগড়ে রাতের আধাঁরে জমি দখল করে মন্দির ঘর তুলে বসানো হয়েছে সনাতন ধর্মালম্বীদের কালী প্রতিমা। সেই সাথে একই জমিতে একটি ঘর ও একটি টিনের চালা তোলা হয়েছে।
পাশেই একটি লটকন গাছের নিচে তৈরী করা হয়েছে মাঁচা। সেই ঘরে রাতে ও মাঁচায় দিনে অবস্থান করছেন জমি দখলকারীরা। গত শনিবার (২০মে) রাতে ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের তেপুকুরিয়া বিউটিপাড়া এলাকায়।
এ ঘটনার প্রতিকার পেতে ইউপি চেয়ারম্যান ও বোদা থানাতে লিখিত অভিযোগ দেয়ার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও কোন প্রতিকার পাননি ভূক্তভোগী আব্দুল আউয়াল (৫১)।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু লোকজনের উস্কানিতে পূর্বপুরুষের বিক্রি করা জমি আবারো দখলে নিয়েছেন স্থানীয় রাজেন্দ্র রায় (৫২), তার ছোট ভাই সুবাস চন্দ্র রায় (৪৫) সহ তাদের পরিবারের সদস্যরা।
তবে জমি দখলকারীরা বলছেন, ওই জমির সঠিক কাগজপত্র দেখাতে পারলে আব্দুল আউয়ালকে জমি ছেড়ে দেবেন তারা। তবে আব্দুল আউয়ালের অভিযোগ গায়ের জোরে ও ধর্মকে ব্যবহার করে স্থানীয় কিছু মানুষের উস্কানিতে তার কষ্টের টাকায় কেনা জমিতে রাতের আধাঁরে মন্দির ও ঘর তোলা হয়েছে। দখলকারীদের স্থানীয় ইউপি সদস্যর ডাকা সালিশে ও থানায় ডাকা সালিশে কখনোই হাজির করা যায়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের তেপুকুরিয়া বিউটিপাড়া এলাকার অসহায় দিনমজুর আব্দুল আউয়াল প্রতিবেশি আইজুল ইসলামের কাছ থেকে ২০২২ সালে কেনেন ২২ শতক জমি। জমি কেনার পরে চাষাবাদ করতে যেতেই বাধাঁ দেন রাজেন্দ্র রায়, তার ছোট ভাই সুবাস চন্দ্র রায় সহ তাদের পরিবারের সদস্যরা। পরে এনিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বোদা থানায় সালিশ ডাকা হলেও প্রতিবারই নানা অজুহাতে সালিশে অনুপস্থিত ছিলেন রাজেন্দ্র রায় সহ তাদের পরিবারের লোকজন। ফলে হয়নি জমি নিয়ে কোন ফায়সালা। এরই মাঝে গত শনিবার (২০মে) রাতের আধাঁরে মন্দির ও ঘর তোলেন রাজেন্দ্ররা। এর পর সেখানেই বিদ্যুৎ সংযোগ টেনে অস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন তারা। ভূক্তভোগী আব্দুল আউয়াল বলেন, আমি কষ্টের টাকায় ২২ শতক জমি কিনেছি প্রতিবেশি আইজুলের কাছ থেকে। তিনি ১০ থেকে ১২ বছর আগে রাজেন্দ্রের কাকা শিবেন রায়, পার্বতী রায় ও অশুনি রায়ের কাছ থেকে কিনেছেন। এতদিন তিনি (আইজুল) ফসল আবাদ করছিলেন। আমি কেনার পরই হঠাৎ তারা আমার জমি দখলে নিল। তাও আবার ধর্মকে ব্যবহার করে। এখন আমিই আমার কেনা জমিতে যেতে পারছিনা। অথচ আইজুলের কাছে জমি থাকাকালীন তারা জমি দখল করতে আসেনি। আমি বিচার চেয়ে সকলের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু নায্য বিচার পাচ্ছিনা। আমি জমি ফেরত চাই। এর একটা সুষ্ঠু সমাধান চাই। আউয়ালের বড় ভাই দুলাল উদ্দীন বলেন, আমার ভাই গত বছরই ২২ শতক জমি কেনে প্রতিবেশি আইজুলের কাছ থেকে। তবে রাজেন্দ্র সহ কয়েকজন দাবী করছে জমি তাদের। যদিও আইজুল ওই জমি রাজেন্দ্রদের পূর্বপুরুষদের কাছে কিনেছে। এতদিন তারা দখল করতে আসেনি। কিন্তু হঠাৎ করে তারা আমার অসহায় ভাইটির জমি দখল করে নিল। আমরা এর সুষ্ঠ বিচার চাই। স্থানীয় আব্দুল হালিম বলেন, আউয়াল নামে এক ব্যাক্তি বেশকিছুদিন আগে জমি কিনেছেন তারই প্রতিবেশি আইজুলের কাছ থেকে। আইজুল কিনেছে রাজেন্দ্রের তিনজন কাকার কাছ থেকে। কিন্তু চাষাবাদ করতে গেলে তিনি বাঁধার শিকার হন। এই মানুষটি যেন সঠিক বিচার পান। অভিযুক্ত রাজেন্দ্র রায় বলেন, আমরা দখলে নিয়েছি। এটা আমাদের পূর্ব পুরুষের ভিটা। এখানে মন্দির আগে থেকে ছিল। আমরা যখন এখান থেকে চলে যাই তখন মন্দির নিয়ে যাই। আমার এখানে আসছি মন্দির নিয়ে আসছি। যদি তারা সঠিক কাগজ দেখাতে পারে তাহলে আমরা জমি ছেড়ে দিবো। বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেব আলী বলেন, আমি বিষয়টি সুরাহা করতে স্থানীয় ইউপি সদস্য কাব্যভূষণ রায়কে প্রধান করে ৫ সদস্যর একটি কমিটি করে দিয়েছি। ওই কমিটি কয়েকবার শালিস ডেকেছে। কিন্তু বিবাদী পক্ষ হাজির হয়নি। এদিকে এর মাঝে একদিন শুনি জমি দখলে নিতে নাকি রাজেন্দ্ররা মন্দির ও ঘর তুলেছে। জমি পাবে নাকি পাবেনা সেটা কাগজপত্র দেখে ঠিক করা হবে। কিন্তু ধর্মকে ব্যবহার করে জমি দখল করা এটা রাজেন্দ্ররা ঠিক করেনি।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় রায় বলেন, আমাদের কাছে আউয়াল নামে এক ব্যাক্তি জমি সংক্রান্ত বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমাদের কর্মকর্তারা সেখানে গিয়েছিলেন। সরেজমিনে দেখেছেন। তবে দুইপক্ষই আমাদের আশ^স্ত করেছিল যে তারা জমিতে যাবেনা। কোন ধরনের বিশৃংখলা সৃষ্টি করবেনা। আসলে জমি নিয়ে তো আমরা কোন বিচার করতে পারিনা। এটা ইউপি চেয়ারম্যান বা আদালতের বিষয়। আমরা দেখছি যেন আইন শৃংখলার অবনতি না হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিরতি চুক্তিতে বাধা দেয়ার অভিযোগ

পঞ্চগড়ে জমি দখল করে মন্দির নির্মাণের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ মে ২০২৩

পঞ্চগড়ে রাতের আধাঁরে জমি দখল করে মন্দির ঘর তুলে বসানো হয়েছে সনাতন ধর্মালম্বীদের কালী প্রতিমা। সেই সাথে একই জমিতে একটি ঘর ও একটি টিনের চালা তোলা হয়েছে।
পাশেই একটি লটকন গাছের নিচে তৈরী করা হয়েছে মাঁচা। সেই ঘরে রাতে ও মাঁচায় দিনে অবস্থান করছেন জমি দখলকারীরা। গত শনিবার (২০মে) রাতে ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের তেপুকুরিয়া বিউটিপাড়া এলাকায়।
এ ঘটনার প্রতিকার পেতে ইউপি চেয়ারম্যান ও বোদা থানাতে লিখিত অভিযোগ দেয়ার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও কোন প্রতিকার পাননি ভূক্তভোগী আব্দুল আউয়াল (৫১)।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু লোকজনের উস্কানিতে পূর্বপুরুষের বিক্রি করা জমি আবারো দখলে নিয়েছেন স্থানীয় রাজেন্দ্র রায় (৫২), তার ছোট ভাই সুবাস চন্দ্র রায় (৪৫) সহ তাদের পরিবারের সদস্যরা।
তবে জমি দখলকারীরা বলছেন, ওই জমির সঠিক কাগজপত্র দেখাতে পারলে আব্দুল আউয়ালকে জমি ছেড়ে দেবেন তারা। তবে আব্দুল আউয়ালের অভিযোগ গায়ের জোরে ও ধর্মকে ব্যবহার করে স্থানীয় কিছু মানুষের উস্কানিতে তার কষ্টের টাকায় কেনা জমিতে রাতের আধাঁরে মন্দির ও ঘর তোলা হয়েছে। দখলকারীদের স্থানীয় ইউপি সদস্যর ডাকা সালিশে ও থানায় ডাকা সালিশে কখনোই হাজির করা যায়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের তেপুকুরিয়া বিউটিপাড়া এলাকার অসহায় দিনমজুর আব্দুল আউয়াল প্রতিবেশি আইজুল ইসলামের কাছ থেকে ২০২২ সালে কেনেন ২২ শতক জমি। জমি কেনার পরে চাষাবাদ করতে যেতেই বাধাঁ দেন রাজেন্দ্র রায়, তার ছোট ভাই সুবাস চন্দ্র রায় সহ তাদের পরিবারের সদস্যরা। পরে এনিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বোদা থানায় সালিশ ডাকা হলেও প্রতিবারই নানা অজুহাতে সালিশে অনুপস্থিত ছিলেন রাজেন্দ্র রায় সহ তাদের পরিবারের লোকজন। ফলে হয়নি জমি নিয়ে কোন ফায়সালা। এরই মাঝে গত শনিবার (২০মে) রাতের আধাঁরে মন্দির ও ঘর তোলেন রাজেন্দ্ররা। এর পর সেখানেই বিদ্যুৎ সংযোগ টেনে অস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন তারা। ভূক্তভোগী আব্দুল আউয়াল বলেন, আমি কষ্টের টাকায় ২২ শতক জমি কিনেছি প্রতিবেশি আইজুলের কাছ থেকে। তিনি ১০ থেকে ১২ বছর আগে রাজেন্দ্রের কাকা শিবেন রায়, পার্বতী রায় ও অশুনি রায়ের কাছ থেকে কিনেছেন। এতদিন তিনি (আইজুল) ফসল আবাদ করছিলেন। আমি কেনার পরই হঠাৎ তারা আমার জমি দখলে নিল। তাও আবার ধর্মকে ব্যবহার করে। এখন আমিই আমার কেনা জমিতে যেতে পারছিনা। অথচ আইজুলের কাছে জমি থাকাকালীন তারা জমি দখল করতে আসেনি। আমি বিচার চেয়ে সকলের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু নায্য বিচার পাচ্ছিনা। আমি জমি ফেরত চাই। এর একটা সুষ্ঠু সমাধান চাই। আউয়ালের বড় ভাই দুলাল উদ্দীন বলেন, আমার ভাই গত বছরই ২২ শতক জমি কেনে প্রতিবেশি আইজুলের কাছ থেকে। তবে রাজেন্দ্র সহ কয়েকজন দাবী করছে জমি তাদের। যদিও আইজুল ওই জমি রাজেন্দ্রদের পূর্বপুরুষদের কাছে কিনেছে। এতদিন তারা দখল করতে আসেনি। কিন্তু হঠাৎ করে তারা আমার অসহায় ভাইটির জমি দখল করে নিল। আমরা এর সুষ্ঠ বিচার চাই। স্থানীয় আব্দুল হালিম বলেন, আউয়াল নামে এক ব্যাক্তি বেশকিছুদিন আগে জমি কিনেছেন তারই প্রতিবেশি আইজুলের কাছ থেকে। আইজুল কিনেছে রাজেন্দ্রের তিনজন কাকার কাছ থেকে। কিন্তু চাষাবাদ করতে গেলে তিনি বাঁধার শিকার হন। এই মানুষটি যেন সঠিক বিচার পান। অভিযুক্ত রাজেন্দ্র রায় বলেন, আমরা দখলে নিয়েছি। এটা আমাদের পূর্ব পুরুষের ভিটা। এখানে মন্দির আগে থেকে ছিল। আমরা যখন এখান থেকে চলে যাই তখন মন্দির নিয়ে যাই। আমার এখানে আসছি মন্দির নিয়ে আসছি। যদি তারা সঠিক কাগজ দেখাতে পারে তাহলে আমরা জমি ছেড়ে দিবো। বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেব আলী বলেন, আমি বিষয়টি সুরাহা করতে স্থানীয় ইউপি সদস্য কাব্যভূষণ রায়কে প্রধান করে ৫ সদস্যর একটি কমিটি করে দিয়েছি। ওই কমিটি কয়েকবার শালিস ডেকেছে। কিন্তু বিবাদী পক্ষ হাজির হয়নি। এদিকে এর মাঝে একদিন শুনি জমি দখলে নিতে নাকি রাজেন্দ্ররা মন্দির ও ঘর তুলেছে। জমি পাবে নাকি পাবেনা সেটা কাগজপত্র দেখে ঠিক করা হবে। কিন্তু ধর্মকে ব্যবহার করে জমি দখল করা এটা রাজেন্দ্ররা ঠিক করেনি।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় রায় বলেন, আমাদের কাছে আউয়াল নামে এক ব্যাক্তি জমি সংক্রান্ত বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমাদের কর্মকর্তারা সেখানে গিয়েছিলেন। সরেজমিনে দেখেছেন। তবে দুইপক্ষই আমাদের আশ^স্ত করেছিল যে তারা জমিতে যাবেনা। কোন ধরনের বিশৃংখলা সৃষ্টি করবেনা। আসলে জমি নিয়ে তো আমরা কোন বিচার করতে পারিনা। এটা ইউপি চেয়ারম্যান বা আদালতের বিষয়। আমরা দেখছি যেন আইন শৃংখলার অবনতি না হয়।