সম্পাদকীয় – দৈনিক অন্যদিগন্ত https://thedailyannadiganta.com সত্য ও সুন্দরের খোঁজে প্রতিদিন Fri, 06 Mar 2026 14:49:26 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 https://thedailyannadiganta.com/wp-content/uploads/2023/04/cropped-onnodigonto_fav-32x32.jpg সম্পাদকীয় – দৈনিক অন্যদিগন্ত https://thedailyannadiganta.com 32 32 মোটা বুদ্ধিতে কোটা আন্দোলন https://thedailyannadiganta.com/archives/2662 https://thedailyannadiganta.com/archives/2662#respond Wed, 31 Jul 2024 13:45:00 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2662 সালটা সম্ভবত ২০১১। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মৌখিক পরীক্ষার সামনে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর একজন মেয়ে পরীক্ষার্থী হাজির হলো।
জানা গেল তার বাড়ি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। বাবা ওই এলাকায় একজন হতদরিদ্র কৃষক। একটা ভাঙাচোরা প্রাইমারি স্কুল আছে। শিক্ষক আছেন দুজন। সেই স্কুল থেকে সে পাস করে রাঙামাটি শহরে এসে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে মাধ্যমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায়ও সে পাস করে। এরপর অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেছে উত্তরবঙ্গের একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। অবাক হয়ে জানতে চাই, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নয় কেন? উত্তরে জানা গেল সে লিখিত পরীক্ষায় টিকেছিল কিন্তু ফাইনাল লিস্টে টিকেনি। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী কোটায়ও চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেখানেও হয়নি। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ শতাংশ কোটা বরাদ্দ ছিল তখন। সেই পাঁচ শতাংশ আসে নির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মূল তালিকা থেকে। দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ব্যবস্থা। ছাত্রীটি শেষমেশ ভর্তির সুযোগ পেল উত্তরবঙ্গের সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনার্স মাস্টার্স দুটি পরীক্ষায়ই তার ফলাফল খুবই ভালো। এরপর প্রস্তুতি নিয়ে সে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে লিখিত অংশে পাস করে মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। মৌখিক পরীক্ষার সদস্যদের সামনে লিখিত পরীক্ষার কোনো নম্বর থাকে না। বোর্ডের সভাপতিসহ মোট পাঁচজন সদস্য থাকেন। সবাই পৃথক পৃথকভাবে নম্বর দেন। এরপর সব গড় করে লিখিত পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে যোগ হয়ে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে জাপানে গেলে সেই মেয়ের সঙ্গে আবার দেখা। সে-ই আমার প্রটোকল অফিসার। নিজ থেকে পরিচয় দিয়ে জানাল তার মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে আমি ছিলাম। এও জানাল আমি তার কাছে কী কী জানতে চেয়েছিলাম। চমৎকৃত হই সেই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মেয়েটা বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ফরেন সার্ভিসের একজন অফিসার। এর বছর দুই পর তার সঙ্গে দেখা আমাদের ফরেন সার্ভিস একাডেমির এক প্রশিক্ষণ কোর্সে। জানাল সে জাপানে তার মেয়াদ শেষ করে এখন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত আছে। পরবর্তী পোস্টিং কোথায় এখনো সে জানে না। এরপর তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই।
বর্তমানে দেশে একটি কোটাবিরোধী আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকারীদের দাবি কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সব নিয়োগ ‘মেধার’ ভিত্তিতে দিতে হবে। আন্দোলনকারী একজন মেয়ে টিভি পর্দায় বলল, ‘মেয়েরা এখন ছেলেদের সঙ্গে সঙ্গে অনেক এগিয়েছে, তাদের কোটার প্রয়োজন নেই। ’ এই মেয়েটা দেশের বর্ণিত শ্রেণির মেয়েদের কথা কি জানে? সে কি জানে আমাদের হাওর, দুর্গম বা দ্বীপাঞ্চলের পড়ুয়ারা কত কষ্ট ও দারিদ্র্যের মধ্যে থেকে লেখাপড়া করে? না, জানে না। দুর্ভাগ্য হচ্ছে এরা দেশের সবাইকে নিজেদের দৃষ্টিতে দেখে। তারা যেমন লাখ টাকা দামের মোবাইল ফোনের সঙ্গে জন্ম থেকেই পরিচিত; ঠিক সেভাবেই মনে করে দেশের সব মেয়েরা এই সুবিধা ভোগ করে। তারা বুঝতে পারে না, ঢাকা বাংলাদেশ নয়। সবাই তাদের মতো সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে না। এই দেশে যেমন চোখ ধাঁধানো প্রাচুর্য তেমন আছে দারিদ্র্য আর বৈষম্যের শিকার লাখ লাখ মানুষ। যেমন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্কুল আছে তেমন আছে চালা ছাড়া স্কুলও।
নানা কারণে সমাজের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে চাকরি, শিক্ষা বা রাষ্ট্রের নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য দেশে দেশে কোটাপ্রথা চালু ছিল এবং এখনো আছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের কালো মানুষদের জন্য শিক্ষালয়ে ভর্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থা রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে সেই দেশে একাধিক মামলা হয়েছে এবং তা আদালতের মাধ্যমে সুরাহা হয়েছে কোনো আন্দোলনের মাধ্যমে নয়। ভারতের কোটা পদ্ধতি অনেক ব্যাপক। সেখানে ৬০ শতাংশ সরকারি চাকরি কোটার মাধ্যমে পূরণ হয়। সেনাবাহিনীতেও এই কোটার মাধ্যমে সেনা সদস্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়। একই ব্যবস্থা পাকিস্তানেও। দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো, ফ্রান্স, ব্রিটেনসহ ইউরোপের অনেক দেশে নানা রকমের কোটা ব্যবস্থা ছিল এবং আছে। কোনোটা লিঙ্গবৈষম্য কমাতে, কোনোটা হয়তো বয়স্ক মানুষকে চাকরির সুযোগ করে দিতে। এই কোটা ব্যবস্থা সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চালু আছে। অন্যদিকে জাতিসংঘসহ সব আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশসহ সব সদস্য দেশের জন্য কোটা সংরক্ষিত আছে যা কদাচিৎ পূরণ হয় কারণ বাংলাদেশের ‘মেধাবী’দের ওইসব চাকরিকে প্রবেশের যে মাপকাঠি আছে তা থাকে না। যার অন্যতম হচ্ছে ইংরেজি ছাড়াও অন্য আর একটি ভাষা জানা। সঙ্গে আছে কোনো একটি বিষয়ের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়া। রাজপথে স্লোগান দেওয়া আর এসব যোগ্যতা অর্জন করা ভিন্ন বিষয়। সেসব পদ সাধারণত পূরণ হয় ভারতসহ এ অঞ্চলের দক্ষ ও মেধাবীদের দিয়ে।
পাকিস্তান আমলে সেনাবাহিনীর কথা বাদ দিলেও সরকারি অন্যান্য চাকরিতে সর্বক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া তৎকালীন পূর্ব-বাংলার অধিবাসীদের জন্য বিভিন্ন সময়ে বাঙালি রাজনীতিবিদরা সরকারি চাকরিতে বাঙালিদের জন্য কোটা সংরক্ষণের জন্য দাবি করে ব্যর্থ হয়েছেন। পাকিস্তানের ২৩ বছরের শাসনামলে পাকিস্তানি কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি পাওয়া ছিল বাঙালিদের জন্য সোনার হরিণ পাওয়ার মতো। তারপরও শ্রেফ মেধারগুণে কয়েকজন বাঙালি সর্ব পাকিস্তান পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলেন। এদের মধ্যে এ কে এম আহসান, শফিউল আজম, মনোওয়ারুল ইসলাম অন্যতম। আবার দু-একজন শীর্ষ তালিকায় স্থান দখল করা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। কারণ পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর দৃষ্টিতে তারা ‘কমিউনিস্ট’ ছিলেন। আজ যারা বামপন্থি রাজনীতি করেন তারা কজনে জানেন বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবই বামপন্থিদের কমিউনিস্ট নাম নিয়ে এ দেশে রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছিলেন? পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানের প্রদেশগুলোর জন্য পৃথক একটি ক্যাডার সার্ভিস ছিল। পূর্ব পাকিস্তানের ক্যাডার সার্ভিসের বেশির ভাগ সদস্য ছিল ভারত থেকে আসা উর্দুভাষী বিহারিরা। এই ইতিহাস আজ যারা রাজপথে কোটা বাতিলের নামে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের আন্দোলন করছেন হয়তো তাদের অজানা।
দেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি চালু করেছিলেন। এটি তাদের জন্য কোনো উপহার ছিল না। এটি ছিল দেশের জন্য তাদের যে আত্মত্যাগ তার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। যারা সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন তাদের দুই বছরের জ্যেষ্ঠতা দেওয়া হয়েছিল। এই সুযোগ অনেকেই নেননি কারণ তাদের যে মেধা বা দক্ষতা ছিল তাতে তারা ওই সুযোগ না নিয়েও ভালো অবস্থানে ছিলেন। ১৯৭২ সালে যখন আমাদের সংবিধান প্রণীত হয় তখন সংসদে নারীদের জন্য পনেরোটি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়। দেশের অনগ্রসর অংশের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা (কোটা) রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয় (২৮-৪ ও ২৯-৩) ১৯৭৫ সালের পর ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তবিধৌত এই বাংলাদেশে কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে যারা আন্দোলন করছে তাদের দাবি মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা বাতিল করতে হবে। এই কোটা যদিও ত্রিশ শতাংশ তারা বলে ৫৪ শতাংশ। তারা হয়তো জানে না এ পর্যন্ত এই মুক্তিযোদ্ধা কোটার গড়ে ১২.০২ (২৭তম থেকে ৩০তম) শতাংশের বেশি ব্যবহৃত হয়নি। ১৯৮৮ সালে তা শূন্য শতাংশে নেমে এসেছিল। বাকিটা প্রয়োজনে মেধা তালিকা হতে পূরণ করা হয়। ২৭তম বিসিএস থেকে ৩০তম বিসিএসসের মেধা কোটার বাইরে অর্থাৎ মেধা তালিকায় চাকরি পেয়েছে গড়ে ৬৭ দশমিক ৮ শতাংশ। বর্তমানের প্রায় ৭০ শতাংশই সাধারণ তালিকা থেকে হচ্ছে। তারপরও অনেক পদ খালি থেকে যায় কারণ মেধাবী বা যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায় না।
২০১৮ সালে এমন একটি কোটাবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছিল। বাস্তবে তাও ছিল মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল আন্দোলন। দুঃখের বিষয় হচ্ছে ১৯৭৫ সালের পট-পরিবর্তনের পর একাধিক প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে যাদের কাছে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ ‘মুক্তিযুদ্ধ’ আর ‘বঙ্গবন্ধুু শব্দগুলো অনেকটা গালির মতো শোনায়। তারা হচ্ছে ওই প্রজন্ম যারা কথায় কথায় বলে ‘I hate Bangladesh’। দেশের হাওয়া-বাতাস খেয়ে মানুষ হওয়া এরা প্রথম সুযোগেই দেশত্যাগ করে অন্য দেশে তৃতীয় শ্রেণির নাগরিকত্ব গ্রহণ করার জন্য সুযোগ খোঁজে। এটি আমাদের সামস্টিক ব্যর্থতা।
মুক্তিযোদ্ধা কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের অনেকেরই মাথায় জাতীয় পতাকা ফেটি বা ব্যান্ড হিসেবে বাঁধা থাকে। তারা হয়তো জানে না ওই একটি পতাকার জন্য এই দেশের ত্রিশ লাখ মানুষ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এই পতাকা ব্যান্ড হিসেবে বাঁধার জন্য নয় অন্তরে ধারণ করার জন্য আমাদের দিয়ে গিয়েছিল ওই শহীদরা। তারা হয়তো এও জানে না ১৯৭৫ সালের পর সব সামরিক-বেসামরিক সরকার অলিখিতভাবে এই কোটা ব্যবস্থা স্থগিত করেছিল। শ্রেফ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার ‘অপরাধে’ অনেককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠন করার পর দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছর পর এই পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়। তিনি একুশ বছরের ক্ষতিটা পুষিয়ে দেওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা তাদের পরবর্তী প্রজন্ম পর্যন্ত সম্প্রসারণ করেন তবে তাদের এই সুযোগ গ্রহণ করতে হলে মেধার স্বাক্ষর রাখতে হবে। এটি এমন নয় যে, একজন এসে দাবি করল সে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা মুক্তিযোদ্ধা তাকে চাকরি দেওয়া হোক। তাকে আগে মেধা যাচাইয়ের সব প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। তারপর ওই ধাপ পার হলে পরবর্তী ধাপে তাকে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, একটি নির্বাচনি পরীক্ষায় এক শ জন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান প্রাথমিক ধাপে উত্তীর্ণ হলো। সেই এক শ জন থেকে প্রথম ত্রিশজন চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পাবে। বাকি সত্তরজন বাইরে থেকে যাবে। তারা যদি সাধারণ তালিকায় আসতে পারে আসবে। এই যে যাদের জন্য কোটা সংরক্ষিত আছে তারা সবাই এই কোটার সুযোগ গ্রহণ করে চাকরিতে আসে না। তারা অন্যদের লাইনে দাঁড়িয়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করে। খোঁজ নিয়ে দেখা যাবে, বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক থেকে শুরু করে সচিব পর্যন্ত অনেকেই কর্মরত আছে যারা তাদের কোনো কোটা ব্যবস্থার সুবিধা নেননি। আবার পারিবারিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও সমাজের একেবারে উচ্চবিত্ত শ্রেণির সন্তানরা সরকারি চাকরির প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেন না। কারণ তারা তাদের একটি উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করে ভোগ-বিলাসে যা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির সন্তানরা পায় না; কিন্তু তারা কর্মজীবনের সব প্রতিযোগিতায় ভালো করে। কোটা ব্যবস্থা অযোগ্যদের ঢালাওভাবে সুযোগ দেয় তা কল্পনাপ্রসূত।
২০১৮ সালে বর্তমান কোটাবিরোধী আন্দোলনের মতো আর একটি আন্দোলন হয়েছিল। সেটাও ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা বাতিল চেয়ে। তখন দেশে একটি সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছিল। সেই আন্দোলনে যারা সম্পৃক্ত ছিল তারা কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছিল। দ্রুত সেই আন্দোলন তাদের হাতে চলে যায় এবং তা ভয়ানকভাবে একটি উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্ম দেয়। একপর্যায়ে এই আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা করে তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। ক্ষতি হয় কয়েক কোটি টাকার। তখন উপাচার্যের বাসভবনে চা পরিবেশন করার জন্য একটি কাপও অক্ষত ছিল না। বর্তমানেও সেই একই রাজনৈতিক দলগুলো এই কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সমর্থন দিয়েছে। পরবর্তী দৃশ্যের জন্য জাতি অপেক্ষা করছে। সেই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সংসদে এই কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা করেন। এই প্রেক্ষাপটে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে। এতে সাতজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দেশের উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা দায়ের করলে আদালত কোটার বিপক্ষে রায় দেয় যার অর্থ কোটা ব্যবস্থা বহাল থাকবে। এতে রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিম কোটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আপিল করেন যা এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। আন্দোলনকারীরা সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে নারাজ। তারা এখনই তা বাতিল চান। তা কীভাবে সম্ভব তা কারও জানা নেই। একটি মামলার সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার সমাপ্তি হয়েছে বলা যাবে না। বঙ্গবন্ধুকন্যা তার পরিবারের সতেরোজন সদস্যের বিচারের জন্য যদি ত্রিশ বছর অপেক্ষা করতে পারেন তা হলে বর্তমান প্রজন্ম কেন কদিন অপেক্ষা করতে পারবে না। গত রবিবার একটি টিভি চ্যানেলে একজন আন্দোলনকারী নেতা আসল কথাটি বলে ফেললেন। সঞ্চালকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বেশ উচ্চ কণ্ঠে বললেন, এই সরকারের ওপর মানুষের আস্থা নেই, আদালতের ওপর আস্থা নেই। সরকার চাইলেই আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিতে পারে। মেধার কী ভয়াবহ বিচ্ছুরণ। এক নেতা আবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘নির্বাহী বিভাগ চাইলে জারি করতে পারে নতুন পরিপত্র’। আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এমন পরিপত্র যে আদালত অবমাননার শামিল তা হয়তো সে বুঝতেই পারেনি। তাকে আবার ইন্ধন জুগিয়েছে কয়েকজন মতলবি আইনজীবী। তাদের উদ্দেশ্য সরকার এমন একটি পরিপত্র জারি করুক যা পরবর্তীকালে উচ্চ আদালতে বাতিল হয়ে যায় আর সৃষ্টি হয় নতুন সংকটের।
কদিন আগে আন্দোলনকারীদের একটি মিছিল হাই কোর্টের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগান দিয়েছে। সরকার ও আদালত নিয়ে সেই আন্দোলনকারী যে কথাগুলো বলেছেন এমন কথা প্রতিদিন সরকার উৎখাতে ব্যস্ত দলগুলো বলে থাকে। যখন ঢাকায় নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলছিল তখন সেই আন্দোলন একপর্যায়ে ছিনতাই হয়ে গিয়েছিল। ২০১৮ সালের আন্দোলন দু-একজন স্বঘোষিত রাজনৈতিক নেতা সৃষ্টি করেছিল। এখন দেখার পালা বর্তমান আন্দোলন কজন এমন নেতা তৈরি করে। বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার যে সংস্কার প্রয়োজন, তা কেউ অস্বীকার করবে না। সব দেশে তাই করা হয়। তবে তা রাজপথ দখল করে মানুষকে জিম্মি করে কেন করতে হবে, তা আন্দোলনকারীদের চিন্তা করতে হবে। এই কোটা বা সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়মিতভাবে যৌক্তিক ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে সংস্কার করা উচিত।

আবদুল মান্নান

লেখক: বিশ্লেষক ও গবেষক

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2662/feed 0
সজীব ওয়াজেদ জয় : অনিঃশেষ স্বপ্নচারী https://thedailyannadiganta.com/archives/2566 https://thedailyannadiganta.com/archives/2566#respond Sat, 27 Jul 2024 13:10:38 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2566 একজন মানুষ, একটি নব দিগন্তের সূচনাকারী। একটি দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে যুগান্তকারী পরিবর্তন স্থাপনকারী। শুধুমাত্র একটি ধারণা দিয়ে পুরো বাংলাদেশকে তিনি নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। বলছি, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্থপতি, ভিশন ২০২১-এর নেপথ্য কারিগর প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথা।
যিনি বাংলাদেশের হতাশাগ্রস্ত কোটি তরুণের মাঝে স্বপ্ন বুনে দিয়েছেন। যিনি তরুণদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এক অনন্য পদ্ধতির সঙ্গে খুব সহজে যুক্ত করেছেন। তার ধারণায় গড়ে ওঠা ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তরুণ বা যুবশক্তিকে হতাশার বেড়াজালে আবদ্ধ না করে সম্ভাবনার অমিত দ্বার খুলে দিয়েছে।
আজ এই অনন্য চিন্তক সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন। ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই ঢাকায় তার জন্ম। বাংলাদেশ তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দ্বারা আক্রান্ত। মুক্তিযুদ্ধ চলছে। ভয়াল সেই সময়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কোল আলো করে পৃথিবীতে আসেন তিনি।
তার সেই আলো ঠিকরে এখন বাংলাদেশের অনেককেই আলোকিত করেছে। আজ দেশব্যাপী তথ্য-প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুবশক্তির যে আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে, তার পুরো কৃতিত্ব তারুণ্যে ভরপুর ভিশনারি সজীব ওয়াজেদ জয়ের।
আজকের সফল ব্যক্তিত্ব সজীব ওয়াজেদ জয় বরাবরই লেখাপড়ায় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। তার পিতা এম এ ওয়াজেদ মিয়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী। মা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনন্য আলোকবর্তিকা সেটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
সেই বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান জয় লেখাপড়ায় কৃতী হবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু রাজনীতি বা দেশ গঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকেও নিজেকে এখনো লেখাপড়া বা গবেষণায় ব্যাপৃত রেখেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আইসিটি উপদেষ্টা হিসেবে তিনি যেমন দেশের মানুষের তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছেন, তেমনি তার স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধার কারণে আজ বিশ্বব্যাপী আমাদের তরুণরা নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পেয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে অনেক তরুণের জীবন বদলে গেছে। দেশের সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই পাচ্ছেন হাজারো সুবিধা।
সামাজিক-অর্থনৈতিক সব ক্ষেত্রেই ডিজিটাল বাংলাদেশে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। শুধু কি তাই, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও আজ ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার ও অপব্যবহার চলছে। আর এই অর্জনের নেপথ্যে রয়েছে তার নিরন্তর প্রচেষ্টা।
উচ্চশিক্ষিত জয় বরাবরই মেধাবী একজন মানুষ। তিনি পদার্থ বিজ্ঞান, গণিত শাস্ত্র ও কম্পিউটার সায়েন্সে ব্যাচেলর ডিগ্রি নিয়েছেন ব্যাঙ্গালুরু ইউনিভার্সিটি থেকে। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে পড়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। হারভার্ড কেনেডি স্কুল থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়েছেন।
ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের বিবেচনায় ইয়ং গ্লোবাল লিডার জয় শুধু বাংলাদেশের গর্ব নন, তিনি তার স্বীয় যোগ্যতায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখতে পেরেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত না হলেও সরকারের নীতিগত অনেক সিদ্ধান্তে তার অংশগ্রহণের আভাস পাওয়া যায়। আনন্দের বিষয় হলো, তার সেই অংশগ্রহণ ইতিবাচক ও সময়োপযোগী বলে প্রমাণিত হয়েছে।
আওয়ামী লীগে আজ তরুণ শক্তির যে জয়-জয়কার এর নেপথ্যে তার ভূমিকা রয়েছে বলে অনেকের দৃঢ় বিশ্বাস। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের মধ্যে অন্তত দু’জন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে অনেকেই জানেন। তাদের একজন ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, অন্যজন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।
এ দু’জনের পারফরমেন্সই আশার আলো দেখাচ্ছে। তথ্য-প্রযুক্তি খাতে জুনাইদ আহমেদ পলক যথেষ্ট পারঙ্গমতার পরিচয় দিয়েছেন। আর মোহাম্মদ আলী আরাফাত তার গবেষণা, তথ্য-উপাত্তসহ বক্তব্য-বিবৃতি প্রদানের মাধ্যমে এরই মাঝে আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর কাছে।
ব্যক্তিগতভাবে সজীব ওয়াজেদ জয়ের স্মার্টনেস শুধুমাত্র মুখশ্রী বা তারুণ্যে ভরা চলনবলনে নয়, তার জ্ঞানের আলোকচ্ছটা এবং বক্তব্য-বিবৃতিতেও সেই স্মার্টনেসের সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ে। সময়োপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে যে আলো ধারণ করেছেন তিনি, তা ছড়িয়ে দেওয়াতেই বোধ হয় সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান।
দেশের তরুণ সমাজের সঙ্গে তার কথোপকথন, ভাবনা বিনিময়ে তেমনটিই লক্ষ্য করা যায়। সমস্যা-সংকট জিইয়ে না রেখে বা সমস্যা-সংকটকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মোকাবিলা করার অনন্য প্রচেষ্টা দেখা যায় জয়ের মধ্যে।
যেকোনো আসরে তাকে দেখা যায়, তিনি খুব মনযোগী শ্রোতা। তরুণ ও যুবাদের সব কথা তিনি মন দিয়ে শুনে প্রতিটি বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেন। যুবসমাজের একাংশকে তিনি শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন আপন সৌকর্যে।
মধ্য বয়সেও তারুণ্যে ভরপুর এবং জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত তিনি সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশের প্রাণশক্তি হয়ে উঠবেন সেটা তার জীবনাচারে পাওয়া যায়। আচার-আচরণে তিনি যেমন অত্যন্ত বিনয়ী, তেমনি কর্মস্পৃহায় রয়েছে নিজস্ব স্টাইল।
সময়কে ধারণ করে সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকার প্রত্যয় দেখা যায় তার মধ্যে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পরবর্তী কাণ্ডারি বা শেখ হাসিনার উত্তরসূরি কে হবেন সেটা এখনো স্পষ্ট নয়।
তবে সজীব ওয়াজেদ জয় সেক্ষেত্রে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারবেন সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্থপতি জয় ভবিষ্যৎ স্মার্ট বাংলাদেশের প্রধান কারিগর হয়ে উঠতে পারবেন আপন আলোয় সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
জন্মদিনে বাংলাদেশের তরুণ ও যুবসমাজসহ দেশবাসীর পক্ষ থেকে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্য অনেক শুভকামনা। তিনি শুধু দীর্ঘায়ুই হোন তা নয়, সুস্থতার সঙ্গে বাকী জীবন বেঁচে থাকুন এই প্রত্যাশা। হয়তো সামনের কোনো দিনে বাংলাদেশকে তথ্য-প্রযুক্তির আলোয় আলোকিত করার বীরযোদ্ধা সজীব ওয়াজেদ জয় স্মার্ট বাংলাদেশের অনিঃশেষ কারিগর হয়ে উঠবেন।

সোহেল হায়দার চৌধুরী
উপ-সম্পাদক, দৈনিক নয়া শতাব্দী, সভাপতি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2566/feed 0
সাংবাদিকদের কখনোই নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করা উচিত না https://thedailyannadiganta.com/archives/2553 https://thedailyannadiganta.com/archives/2553#respond Sat, 27 Jul 2024 12:58:57 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2553 আজকের এই সম্পাদকীয় কোনো প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি এবং এর অন্যতম প্রধান মূল্যবোধ সম্পর্কে। আমরা মনে করি, কোনো গণমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়। কোনো প্রতিবেদনের নিম্নমান, তথ্যের ত্রুটি, সিদ্ধান্ত বা ব্যাখ্যা, কোনো কারণেই সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এই দাবি তোলা উচিত নয়।
একটি প্রতিবেদনে যাই বলা হোক না কেন তার উত্তর দেওয়া যেতে পারে কেবলমাত্র আরেকটি ভালো প্রতিবেদনের মাধ্যমে। যাতে থাকবে শক্তিশালী যুক্তি, অকাট্য প্রমাণ এবং পাঠকদের কাছে আরও সুন্দরভাবে তা তুলে ধরার চেষ্টা। কখনোই কোনো গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দাবি করা উচিত নয়। কারণ গণমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা স্বাধীন সাংবাদিকতার ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। সাংবাদিকদের এমন দাবি অনেকটা গাছের ডালে বসে গোঁড়া কেটে দেওয়ার মতোই। ‘হলুদ সাংবাদিকতা’র একমাত্র উত্তর হতে পারে নৈতিক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা। ভুলগুলো ঠিক করুন এবং অন্যায়কারীকে লজ্জা দিন। এভাবেই মন্দ সাংবাদিকতাকে পেছনে ফেলে জয়ী হতে পারে ভালো সাংবাদিকতা।
যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যের ধ্বংসকামী আল-কায়েদা এবং বিন লাদেনকে কেন এত বেশি কাভারেজ দিয়েছিল ইউরোপ-আমেরিকার গণমাধ্যমগুলো? ব্যাপারটি বিস্মিত করেছে অনেককেই। আল-কায়েদা এবং বিন লাদেনের প্রতিটি কথাই মিডিয়া প্রচার করেছে এবং প্রতিবেদনে সত্য তুলে ধরার মাধ্যমে তাদের প্রোপাগান্ডাগুলো সবার কাছে উন্মোচন করেছে, কিন্তু নিষিদ্ধ করেনি বা এড়িয়ে যায়নি। এমনকি আইএসের বিষয়েও একই কাজ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। অথচ তাদের সাংবাদিক ডেনিয়েল পার্লকে শিরশ্ছেদ করেছে এই জঙ্গি সংগঠনটি। পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমের কোনো ত্রুটি বা পক্ষপাত নেই, এ কথা বলা যায় না। তাদেরও ভুল আছে, তবে এর চেয়ে বেশি যা আছে তা হলো ভালো সাংবাদিকতার অনুশীলন।
সাংবাদিকতার প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতা। যদি বলা হয় যে, আপনি যা ইচ্ছে বলতে পারেন, তবে তা আমার পছন্দ হতে হবে। যদি আমার পছন্দ না হয় তাহলে আর বলতে দেবো না। এ অবস্থায় কি কোনো স্বাধীনতা থাকবে?
সাংবাদিকতার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। অন্যায়, মানহানি, তথ্যের বিকৃত প্রকাশ, এমনকি অসত্য তথ্যের বিষয়ে যে কারও আপত্তি করার অধিকার আছে। উৎকৃষ্ট সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমুচিত জবাব দেওয়ারও সুযোগ আছে।
আমরা চিন্তিত যে, সব সরকারই ‘দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা’র জন্য স্বাধীন গণমাধ্যমকে দায়ী করে এবং বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।
কয়েক দশক না হলেও বেশ কিছু বছর ধরে আমাদের গণমাধ্যমের একাংশ (যে দল ক্ষমতায় তার ওপর নির্ভর করে) জোর দিয়ে বলে যে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ইচ্ছাকৃত ও নিরলসভাবে আমাদের মানহানি করছে।
আমাদের অর্থনীতি বড় হচ্ছে। মাথাপিছু আয় এক হাজার মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় দুই হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ১১ বছর ধরে আমাদের গড় জিডিপি বৃদ্ধির হার ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবং এইচএসবিসি’র মতো বিশ্বের বৃহত্তম দুটি ব্যাংকসহ বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং আইএমএফের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আমাদের চেনে সফল দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে। কাজেই গণমাধ্যমসহ সব জায়গা থেকে আসা সমালোচনার সবচেয়ে ভালো এবং একমাত্র উত্তর হচ্ছে আমাদের উন্নতি।
নিকট ভবিষ্যতে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে সামিল হওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বিরুদ্ধ মত এবং গণমাধ্যমের সমালোচনার প্রতি সহনশীল হতে শিখতে হবে আমাদের। আমাদের পরিপক্কতা এমন পর্যায়ে যেতে হবে যাতে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে আখ্যা পাওয়া রিপোর্টও আমরা সয়ে নিতে পারি। সেই সমস্ত রিপোর্ট যদি অসত্যই হয়ে থাকে তবে সেটা কখনই আমাদের কালিমা লেপন করতে পারবে না।
সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া কোনো কাজের কাজ হতে পারে না। আগেও কখনও কাজে আসেনি, আর এই আধুনিক যুগে আরও আসবে না। বরং এতে দেশ সম্পর্কে আরও বেশি অপ্রয়োজনীয় সমালোচনা জন্ম দেবে। কোনো কিছু নিষিদ্ধ করা হলেই তার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ে, পাঠক বাড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা হলেও তাতে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে।

সূত্রঃ ডেইলি স্টার অনলাইন

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2553/feed 0
আল জাজিরার প্রতিবেদন, সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং আমাদের সাংবাদিকতা https://thedailyannadiganta.com/archives/2556 https://thedailyannadiganta.com/archives/2556#respond Sat, 06 Feb 2021 13:02:18 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2556 গত ১ ফেব্রুয়ারি কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরায় প্রচারিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ প্রতিবেদনটি আমাদের সরকার পরিচালনার কিছু দুর্বলতা প্রকাশ করেছে, যেখানে যোগ্যতা বিবেচনা না করে ব্যক্তিগত পছন্দ বা সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগের প্রসঙ্গ এসেছে। সেই সঙ্গে প্রকাশ করেছে আমাদের গণমাধ্যম কতটা স্বাধীন, সেই বিষয়টিও।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। প্রথমত, ইসরায়েলের নাম গোপন করে দেশটির একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল টেলিফোনে আড়িপাতার যন্ত্র কেনার অভিযোগ এসেছে, যেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্কই নেই। দ্বিতীয়ত, দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রধানের ক্ষমতা অপব্যবহার করে তার ভাইকে ছদ্ম নামে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, ভুয়া পাসপোর্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র করে দেওয়া হয়েছে, যাতে তার ভাই হাঙ্গেরিতে থাকতে পারে এবং ব্যবসা করতে পারে। প্রতিবেদন থেকে আরও একটি প্রশ্ন উঠেছে। সেটি হলো— স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি এই পলাতক ভাইয়েরা কীভাবে পুলিশের অজান্তে বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করছে, যোগ দিচ্ছে রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে? এর প্রত্যেকটিই ফৌজদারি অপরাধ। এর মধ্যে যেকোনো একটি অপরাধ করলেই যেকোনো সাধারণ মানুষের কারাগারে থাকার কথা। তবে যাদের নিয়ে এই প্রতিবেদন, তারা কোনো সাধারণ মানুষ নন।
ইসরায়েল থেকে নজরদারি করার যন্ত্র কেনার বিষয়টি আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কাজেই এই বিষয়টি একেবারে পরিষ্কার করে সবার সামনে তুলে ধরা দরকার। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) প্রতিবাদলিপিতে ইসরায়েল থেকে এ জাতীয় যন্ত্র কেনার কথা অস্বীকার করে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যবহারের জন্য হাঙ্গেরি থেকে কেনা হয়েছে। হাঙ্গেরি থেকে কেন এই সরঞ্জাম কেনা হলো? এই জাতীয় সরঞ্জাম তৈরির জন্য হাঙ্গেরি কখনোই নির্ভরযোগ্য বলে জানা যায় না। আল জাজিরার প্রতিবেদনটিকে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য আইএসপিআরের উচিত হাঙ্গেরির যে প্রতিষ্ঠান থেকে সরঞ্জাম কেনা হয়েছে তার নাম প্রকাশ করে নথিগুলো জনসমক্ষে নিয়ে আসা। যেহেতু আড়িপাতার যন্ত্রগুলো জাতিসংঘের মিশনের জন্য কেনা হয়েছিল, তাই এ সম্পর্কিত তথ্য সামনে আনা হলে দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ার কথা না। তা না করে কেবলমাত্র প্রতিবাদলিপি দেওয়ার মাধ্যমে অস্বীকার করে অভিযোগের বরফ খুব বেশি গলানো সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।
যতটুকু সরকার ও আল জাজিরার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবং বাংলাদেশি গণমাধ্যম যতটা প্রচার করছে, সেটাই এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু। আমাদের হাজারো পাঠক জানতে চাইছেন আল জাজিরা কী বলেছে সেটা প্রকাশ না করে আমরা কীভাবে সরকার ও সামরিক বাহিনীর প্রতিবাদলিপি প্রকাশ করছি? সাংবাদিকতার সাধারণ চর্চা এবং দ্য ডেইলি স্টারে যেটা অনুসরণ করি সেটা হলো— আমরা যদি মূল ঘটনা প্রকাশ না করি, তাহলে প্রতিবাদলিপিও প্রকাশ করি না। এক্ষেত্রে মূল ঘটনাটি আল জাজিরার প্রতিবেদন এবং প্রতিবাদলিপি দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সামরিক বাহিনী। পাঠক জানতে চায়, কী কারণে আমরা প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু প্রকাশ করিনি।
গণমাধ্যম হিসেবে আজ আমরা মুক্ত হলে প্রতিবেদনটি নিয়ে আরও গভীর আলোচনা করতে পারতাম এবং এটি নিয়ে পর্যায়ক্রমে বিশ্লেষণ করে এর পেছনের সত্যটা বের করতে পারতাম। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হিসেবে আল জাজিরার এই প্রতিবেদনকে সর্বোচ্চ মানের বলা যায় না। প্রতিবেদনটির শক্তিশালী কিছু দিক থাকলেও দুর্বলতা রয়েছে বিস্তর। আমি মনে করি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অনুমান ও কটাক্ষ করে দাবি করার চেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ তুলে ধরাটা বেশি জরুরি। প্রতিবেদনটিতে যত জোর দিয়ে দাবি করা হয়েছে, তত তথ্য দিয়ে সব বিষয়ের প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তবে, এই প্রতিবেদনের শক্তিশালী দিক হলো— এটি কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ দিয়েছে। এ ছাড়াও কিছু শক্তিশালী ও সুনির্দিষ্ট বিষয়ের তথ্য-প্রমাণও প্রতিবেদনে রয়েছে।
কিন্তু, সে কথা কে বলবে? আমরা যদি আরও ভালো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে পারতাম, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারতাম এই প্রতিবেদনের দুর্বল দিকগুলো। আমরা কি সেটা করতে পারি? আমরা কি জনগণের কাছে নীতি নির্ধারকদের জবাবদিহি করাতে পারি? আমরা কি এটা প্রকাশ করতে পারি যে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করতে কেন এত দেরি হয় এবং সেগুলোর খরচ কেন প্রাক্কলিক বাজেটের চেয়ে তিন-চার গুণ বেড়ে যায়? আমরা কি খুঁজে বের করতে পেরেছি যে কারা বিদেশে অর্থ পাচার করে? এমনকি পানামা পেপারসে যখন আমাদের দেশের কিছু মানুষের নাম প্রকাশ পেল তখনো কি আমরা বিষয়টি অনুসন্ধান করেছি? বছরের পর বছর যাদের কোনো প্রকার প্রশ্ন না করে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তাদের কি আমরা খুঁজে বের করতে পেরেছি? আমরা কি খুঁজে বের করতে পেরেছি যে কেন ঋণখেলাপিদের টাকা পরিশোধের সময় বৃদ্ধি করা হচ্ছে, সুদ মওকুফ হচ্ছে? টরন্টোর ‘বেগম পাড়া’য় যাদের বাড়ি আছে বা মালয়েশিয়ায় অবৈধ সেকেন্ড হোম যারা করেছেন, তাদের বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? না, তাদের কারও বিরুদ্ধে আমরা কিছুই করিনি। কারণ, তারা সবাই আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালী। আমরা তাদের নাড়ানোর সাহস পাইনি। কখনো কখনো আমরা আমাদের নিজস্ব অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করি। সেটা করতে পারি তখনই, যখন ঘটনার মূল হোতাকে সামনে না আনা হয়, কিংবা আসল অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় না থাকে কিংবা আমাদের প্রতিবেদন তাদের জন্য সুবিধাজনক হয়।
তাহলে আমরা কেন ‘শুনব না, দেখব না, বলব না’ নীতি নিয়েছি?
কারণ একটাই।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি মিডিয়া ওয়াচডগ বডি আর্টিকেল ১৯-এর সর্বশেষ অনুসন্ধান (২০২০) অনুযায়ী তিনটি ক্ষেত্রের মারাত্মক অবনতি হয়েছে। প্রথমটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, দ্বিতীয়টি ডিজিটাল জগতের অধিকার এবং তৃতীয়টি ভিন্নমত পোষণের অধিকার।
তাদের প্রতিবেদন বলছে, গত বছর দুজন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে, ৭৮ জনকে গুরুতরভাবে আহত করা হয়েছে এবং ১৬৬ জনকে হত্যা, অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করা বা তাদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ৫৮ জন সাংবাদিকের নামে মোট ৩৫টি মামলা করা হয়েছে। ২০ জন সাংবাদিকের নামে ১২টি ফৌজদারি মানহানির মামলা করা হয়েছে। ৩১ জন সাংবাদিকের ক্যামেরাসহ খবর সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের কতটা অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকতে হয়, এই উদাহরণগুলো তা বোঝার জন্য মোটেই যথেষ্ট না। সাংবাদিকদের নামে ‘গুজব ছড়ানো’, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা’, ‘দেশের ভাবমূর্তি’ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়। এমনকি কোনো ব্যক্তিকে ‘সামাজিক’ভাবে হেয় করা বা ‘সম্মানহানি’ করার অভিযোগগুলো ‘বিচারযোগ্য অপরাধ’ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। যদিও তারা সামাজিকভাবে হেয় করা বা সম্মানহানি বলতে কী বোঝাতে চায়, তার কোনো পরিষ্কার সংজ্ঞা দেওয়া হয় না বা এটাও বলা হয় না যে ওই সাংবাদিক আইনের কোন ধারাটি লঙ্ঘন করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে শুধু পুলিশ না, ক্ষমতাসীনদের সবাইকে কতটা স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ দেওয়া হয় তা কল্পনাও করতে পারবেন না। যখন জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের একজন সাংবাদিককে জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দেখা করতে বলেন, কিংবা স্থানীয় পুলিশ খোঁজ নিতে থাকেন যে ‘আপনি এবং আপনার পরিবার কখন, কোথায়, কী করছে’, কিংবা বলা হয় ‘সাবধানে থাকবেন, আপনার ওপর আমাদের নজর আছে’, কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা কোনো স্থানীয় সন্ত্রাসী সাংবাদিকের বাড়িতে গিয়ে বলে ‘আপনার দিন ঘনিয়ে এসেছে’, তখন আমাদের সাংবাদিকরা কোন পরিস্থিতির মধ্যে থেকে কাজ করেন তা হয়তো খানিকটা ধারণা করতে পারবেন। এভাবেই আমাদের সাংবাদিকদের কাটাতে হয় দিন, মাস এমনি বছর। (এমনই এক পরিস্থিতিতে আমাদের একজন সংবাদদাতাকে উচ্চপর্যায়ের ক্ষমতাধরদের কাছ থেকে বাঁচাতে অন্যত্র সরিয়ে রাখতে হয়েছিল।)
যখন ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে বলা হয় গুজব ছড়ানো হচ্ছে; যখন সরকার পুরোপুরি লকডাউনের ঘোষণা দেওয়ার পরও বাস মালিক রাস্তায় বাস নামিয়েছে, এমন প্রতিবেদন করা হলে বলা হয় বাস মালিকের ‘মানহানি’ হয়েছে। এর ফলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে মানহানির মামলা হয়েছে, পুলিশ সেই মামলা গ্রহণ করেছে। প্রতিবেদককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যখন করোনা মহামারিতে দরিদ্রদের জন্য সরকারের দেওয়া চাল চুরির প্রতিবেদন করলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে একটি বৃহত্তর অনলাইন নিউজ পোর্টালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও একটি জাতীয় সংবাদ সংস্থার প্রধান সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হতে পারে; যখন কোনো মৃত্যুর ঘটনায় কেবলমাত্র পুলিশের ভাষ্য প্রকাশ না করে ভিন্ন মত প্রকাশ করলে কোনো অনলাইন নিউজ পোর্টালের নিউজ এডিটর ও স্টাফ রিপোর্টারের নামে মামলা ও তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে; তখন দেশের গণমাধ্যমগুলোর বাস্তব চিত্র সকলের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর্টিকেল ১৯-এর প্রতিবেদনের মতোই এমন বাস্তব উদাহরণের শেষ নেই।
সাংবাদিক এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সবচেয়ে বড় হুমকি হচ্ছে— ভয়ংকর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে মানহানির বিধানের সুস্পষ্ট অপব্যবহার। যাকে বর্তমানে প্রচলিত ‘গণমাধ্যম দমনকারী সব আইনের মূল’ হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে। পুলিশ এই আইনের আওতায় আক্ষরিক অর্থেই যে কাউকে, যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গা থেকে তুলে নিয়ে যেতে পারে। কারণ এই আইনের ব্যাখ্যা অস্পষ্ট এবং যে কারো নামে মামলা করার ও গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২০টি ধারার মধ্যে ১৪টি জামিন অযোগ্য। জামিন অযোগ্য কোনো মামলার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের হাত অনেকটাই বাঁধা থাকে। ফলে, অভিযুক্তকে নিশ্চিতভাবেই কারাগারে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি চাইলে অনেক বন্ধুর পথ অতিক্রম করে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিতে পারেন। তবে, তার জন্য লেগে যেতে পারে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত। (ফটো সাংবাদিক কাজলের জামিন পাওয়ার ঘটনাটি এক্ষেত্রে উত্তম উদাহরণ হতে পারে।)
কাজেই বাস্তবতা হলো— অভিযুক্ত হলেই গ্রেপ্তার হতে হবে এবং অপরাধী হোক বা নির্দোষ তাকে জেল খাটতে হবে। একটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা মামলা দিয়েও একজনকে দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস জেল খাটানো সম্ভব।
মানহানির মামলায় আইনে স্পষ্টভাবে দুটি জিনিস বলা হয়েছে। একটি হচ্ছে— কেবলমাত্র ভুক্তভোগী, অর্থাৎ যার মানহানি হয়েছে তিনিই মামলা করতে পারবেন। এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে— একটি মানহানির ঘটনার জন্য কেবলমাত্র একটি মামলা দায়ের করা যাবে। বাস্তবে যে কেউ অপমানিত ‘অনুভব’ করলেই মানহানির মামলা করতে পারছেন। এমনকি যদি সেই ব্যক্তির ঘটনার সঙ্গে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকে, তবুও তিনি মানহানির মামলা করছেন। আমরা যদি কোনো দুর্নীতিপরায়ণ ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে লিখি, তাহলে তার অনুসারীদের মধ্যেও কেউ ‘অপমানিত’ বোধ করে মানহানির মামলা করতে পারছেন। আমরা যদি কোনো রাজনীতিবিদ, স্থানীয় নেতা বা কোনো জনপ্রতিনিধির অপকর্ম সম্পর্কে লিখি, তাহলে তার অনুসারীদের মধ্যে যে কেউ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারছেন।
আমরা প্রায়শই অবাক হই এটা ভেবে যে, বিচারকরা কেন এ ধরনের মামলা গ্রহণ করেন? কেননা আইনে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, কেবলমাত্র তিনিই মামলা করতে পারবেন যার মানহানি হয়েছে। এ ছাড়াও আইনে আছে, একই অপরাধে একাধিক মামলা করা যাবে না। ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারকরা এমন সংগত কারণ দেখিয়ে এই জাতীয় সব মামলা খারিজ করে দিতে পারেন। তারা বলতে পারেন, যে ব্যক্তি অপমানিত হয়েছে তিনি মামলা দায়ের করেননি এবং ইতোমধ্যে অন্য আদালতে এই ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগকে মামলা হিসেবে গ্রহণের জন্য ‘আইনের বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে পূরণ করতে হয়’। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বেশিরভাগ মানহানির মামলায় তা পূরণ করা হয় না। তবুও মামলাগুলো নেওয়া হয়, মামলার শুনানি হয় এবং বিচার কার্যক্রম চলতে থাকে। (এই লেখকের বিরুদ্ধে একই ঘটনায় ৮৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তার মধ্যে একটি বাদে ৮৩টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছিল।)
সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা হলো— বাংলাদেশ যখন পুরোপুরি অজানা এক মহামারির হুমকিতে, যখন পুরো বিশ্ব এই বিধ্বংসী নতুন রোগের অপ্রত্যাশিত পরিণতি থেকে মুক্তি পাওয়ার লড়াইয়ে এবং যখন সাধারণ মানুষ তথ্যের জন্য গণমাধ্যমের দিকে তাকিয়ে, তখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় সবচেয়ে বেশি মামলা করা হয়েছে। আর্টিকেল ১৯-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালে ৪৫৭ জনের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১৯৮টি মামলা করা হয়েছে। যেখানে ২০১৯ সালে ৬৩ জনের নামে করা হয়েছিল ৫৫টি মামলা। এর পাশাপাশি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আদেশ জারি করে যে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা নিষিদ্ধ। তথ্যের অবাধ প্রবাহ বন্ধের জন্য এত প্রচেষ্টা।
এর সবগুলোকে এক সুতোয় গেঁথে যদি বলি তাহলে আইনের ব্যাপক পরিধি, ধারাগুলোর অস্পষ্টতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২০টির মধ্যে ১৪টি জামিন অযোগ্য ধারা, পুলিশকে স্বেচ্ছাচারিতার ক্ষমতা দেওয়া, ‘আইনের বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে পূরণ না হওয়ার পরও’ মামলা গ্রহণ করা, যার মানহানি করা হয়নি তাকেও মামলা দায়ের করার সুযোগ দেওয়া, একই ঘটনায় একাধিক মামলা গ্রহণ করা, উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিতে অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়ার কারণে নিরপরাধ হলেও একজন ব্যক্তিকে বেশ কয়েক দিন (সর্বনিম্ন) জেল খাটতে বাধ্য হওয়া, গুম, খুন, মারধোরের হুমকি, ভয় দেখানো এবং রাজনীতিবিদ ও আমলাদের মুক্ত গণমাধ্যম বিরোধী মনোভাব (অন্যথায় এমন আইন কেন তৈরি হয় যা ব্যবহার করে তারা সহজেই সাংবাদিকদের হয়রানি করতে পারেন) বাংলাদেশে সাংবাদিকতার জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
আইন, আইনের ধারার অস্পষ্টতা এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়নের স্বেচ্ছাচারিতা সম্মিলিতভাবে সাংবাদিকতার একটি ‘ব্ল্যাকহোল’ তৈরি করেছে। যে ‘ব্ল্যাকহোলে’র মধ্যে পরিচালিত হতে আমরা বাধ্য হই।
বাংলাদেশের সাংবাদিকরা যে পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করেন এটা তার কিছু নমুনা মাত্র। এটা আমাদের যেসব দুর্বলতা রয়েছে সেগুলো ঢাকার অজুহাত নয়, বরং আমরা যে দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করতে চাই তার সাক্ষ্য। আমরা যেসব প্রতিবেদন প্রকাশ করি, তার পেছনে থাকে আমাদের প্রতিবেদকদের জীবনের ঝুঁকি। প্রতিটি প্রকাশিত সম্পাদকীয়র কী ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হবে, তা নিয়ে এক ধরনের সুপ্ত ভয় কাজ করে। এমনকি প্রতিটি শব্দ ব্যবহার করতেই আমাদের ভাবতে হয় যে, এটা নিয়ে আবার কার ক্রোধের মুখোমুখি হবো। (দ্য ডেইলি স্টারকে একটি শব্দ নিয়ে ভুগতে হয়েছে এবং ভুগতে হচ্ছে। কারণ, শব্দটি একটি সংস্থার পছন্দ নয়।)
আল জাজিরার প্রতিবেদনটি আমাদের গণমাধ্যমের মাঝে অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে ভাবার বোধ তৈরি করুক, আমাদের শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করুক, আমাদেরকে আমাদের ভুলগুলো মোকাবিলা করতে বাধ্য করুক এবং আমাদের এই মহৎ পেশার মূল্যবোধগুলো সঙ্গে নিয়ে সংশোধনের পথে যাত্রা শুরু করার ক্ষেত্রে আলোর দিশারি হোক।

মাহফুজ আনাম
সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2556/feed 0
সাংবাদিকের কাজই তথ্য প্রকাশ করা, ব্যবস্থা কেন নেওয়া হবে? https://thedailyannadiganta.com/archives/2559 https://thedailyannadiganta.com/archives/2559#respond Fri, 11 Sep 2020 13:04:10 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2559 অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের হত্যার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির জমা দেওয়া প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রথম আলো। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি আলোড়ন তৈরি করেছে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর মূলত তিনটি প্রসঙ্গ আলোচনায় এসেছে।
এক. এরকম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে গণমাধ্যম কাজটি সঠিক করেছে কি না?
দুই. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন কীভাবে পত্রিকায় প্রকাশ পেল সেটা তিনি জানেন না। তিনি এও বলেন, ‘এটা যে প্রকাশ করেছেন বা তথ্য সরবরাহ করেছেন, আমি মনে করি কাজটি সঠিক করেননি।
তিন. একজন সাংবাদিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনের জন্যে পত্রিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।
এই তিনটি প্রশ্ন বা প্রসঙ্গ নিয়ে দ্য ডেইলি স্টার কথা বলেছে দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঙ্গে।
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমি মনে করি এটা সঠিক কাজ হয়েছে। একজন রিপোর্টারের কাজই হলো তথ্য বের করা। আমি নিজেও রিপোর্টার ছিলাম। বহুবার এ ধরনের বিষয় বের করার চেষ্টা করেছি। এর মধ্যে অসুবিধা বা সমস্যার কিছু আমি দেখছি না। যারা বলছেন, এটা করায় অসুবিধা হয়েছে, তারা স্বাধীন সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ করছেন বলে আমি মনে করি। একজন সাংবাদিকের কাজই হচ্ছে তথ্য বের করা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জায়গা থেকে তিনি ঠিকই বলেছেন। তিনি তো বলেননি যে পত্রিকা ভুল করেছে। একজন রিপোর্টারের কাজই তো এটা। না হলে তো কোনোদিন রিপোর্টই বের হবে না। এটাই তো রিপোর্টারের ক্রেডিট। এখন তিনি কীভাবে বের করেছেন বা কারা তাকে তথ্য দিয়েছেন, সেটা তো জানার বিষয় না।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের বিষয়ে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘অনেক সময় আমাদের দেশে যেটা হয়, আমি না পেলে, অন্য যে পেল, তাকে খোঁচানো। আমি বলব, এটা অসুস্থ সাংবাদিকতার একটা লক্ষণ। এটা কোনো কথা হতে পারে না। আমি পারিনি বলে যা ইচ্ছে তাই বলব যে এটা কীভাবে পেল? এটাই হলো আমাদের দেশের সাংবাদিকতার স্ট্যান্ডার্ড। দীর্ঘদিন আমি রিপোর্টার ছিলাম, এখনো রিপোর্ট করি। আমি মনে করি এটা স্বাধীন সাংবাদিকতায় এক ধরনের হস্তক্ষেপ। আমাদের সাংবাদিকদের সমস্যাটাই এটা। এটা কোনো প্রশ্ন হয়েছে যে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? ব্যবস্থা নেবে কেন, এটা তো ক্রেডিট। তাহলে তো ওয়াশিংটন পোস্ট বা ওয়াশিংটন টাইমস ওই সময়ে নিক্সনের (সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট) বিরুদ্ধে যে রিপোর্ট করেছিল, নিক্সন কি ওই রিপোর্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল? নেয়নি। এটা হয় না। কোনোকালেই হয় না। কালে কালে আমাদের দেশে তো কত কিছুই হচ্ছে। এমনটাই দেখলাম ৫০ বছরের সাংবাদিকতার জীবনে।
মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘আমি মনে করি সাংবাদিক হিসেবে পেশাগত দায়িত্বই পালন করা হয়েছে। সাংবাদিকের কাছে যদি সঠিক তথ্য থাকে, সেটা প্রকাশ করাই তার কাজ। সাংবাদিকতার আরেকটা খুব শক্ত পেশাগত থিউরি আছে যে, যদি কোনো তথ্য কেউ গোপন করতে চায়, সেটা প্রকাশ করাই সাংবাদিকের পেশাগত কাজ। তা জনগণের সামনে তুলে ধরা। এখানে একটা বড় প্রশ্ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে থাকে, তা হলো— এটা গোপনীয়। গোপনীয় তথ্য মানে কী? একটা ফাইলের ওপর গোপনীয় তথ্য লিখে দিলেই সেটা কিন্তু গোপনীয় তথ্য না। এটাকে আইনগতভাবে ক্লাসিফাইড ঘোষণা করতে হবে। পৃথিবীর সব দেশের সরকারের এটা নিয়ম আছে যে কিছু বিষয় বা তথ্যকে তারা ক্লাসিফাইড ঘোষণা করবে।
‘আমাদের সংবিধানের ৩৯ নম্বর ধারায় বলা আছে যে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না যার মধ্য দিয়ে সমাজে বৈরিতা সৃষ্টি হয়, বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নষ্ট হয়, এমন কিছু শর্ত দেওয়া আছে। কিন্তু, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে ৩৯ ধারার কোনো শর্ত লঙ্ঘন হয়নি। ফলে আমি মনে করি, একজন সাংবাদিক পেশাদারিত্বের সঙ্গেই কাজটি করেছেন। যদি মন্ত্রণালয় মনে করে থাকেন যে তারা এখনই এটা প্রকাশ করবে না, সেটা তাদের তথ্য ব্যবস্থাপনার অংশ। আমাদের বাংলাদেশ সরকারের মূল সমস্যা হলো তাদের হাতে তথ্য থাকে; কিন্তু, সেই তথ্য ব্যবস্থাপনার কোনো দক্ষতা তাদের নেই। কোন তথ্য কখন প্রচার করতে হবে, কখন করা যাবে না, এটা ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষজ্ঞ আমাদের সরকারের নেই’, বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যদি মনে করে, তারা কোনো তথ্য ক্লাসিফাইড ঘোষণা করতে পারে। তাহলে আমরা বুঝব যে এই তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। কিন্তু, (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির) ওই প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত ক্লাসিফাইড ঘোষণা করা হয়নি। কাজেই আমাদের যে সাংবাদিক এই কাজটা করেছেন, তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই যে তার সোর্স এত শক্তিশালী। যার মাধ্যমে এরকম একটি তথ্য তিনি নিয়ে এসেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়তো একটু বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সাংবাদিক হিসেবে কাজটি সঠিক হয়েছে। সাংবাদিক হিসেবে এটি আমাদের দায়িত্ব যে মানুষকে তথ্যটা জানানো। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়তো একটু বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে যে তাদের দপ্তরের তথ্য কীভাবে পাওয়া গেল। অতীতেও এমন ঘটনার নজির রয়েছে। অনেক তথ্যই সাংবাদিকরা জনগণের সামনে তুলে ধরেছে। আমি নিজেও করেছি। কাজেই সরকার যদি কিছু গোপন রাখতে চায়, তাহলে সেটা তার ব্যবস্থাপনার মধ্যে রাখতে হবে যে এটাকে ক্লাসিফাইড ঘোষণা করা বা কীভাবে এটা সংরক্ষণ করা হবে। কিন্তু, সাংবাদিকের দায়িত্বই হচ্ছে তথ্য প্রকাশ করা। যে তথ্য গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়, সেটা প্রকাশ করার মধ্যেই সাংবাদিকতার মুনশিয়ানা। আমি মনে করি একজন সাংবাদিক পেশাদারিত্বের সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করেছেন। ভুল কোনো কাজ করেনি।
তবে, গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকেই এই ধরনের প্রশ্ন খুব দুঃখজনক বলে মনে করেন মনজুরুল আহসান বুলবুল। তিনি বলেন, ‘পেশাগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই যে, এই পত্রিকা ভালো রিপোর্ট করবে, আমরা কেন করতে পারলাম না। কিন্তু, সেটা পেশাগত প্রতিহিংসা হতে পারে না যে, আমি পারিনি, ওই পত্রিকা পেরেছে। কাজেই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেন। আমি মনে করি এটা খুবই নিচুমানের একটা রুচির পরিচয়। আমার যে বন্ধুটি একটি পত্রিকায় ভালো রিপোর্ট করলেন, আমার দায়িত্ব তার প্রশংসা করা। একইসঙ্গে ভাবা, আমি এরচেয়েও ভালো রিপোর্ট করব। যদি একটি পত্রিকা মনে করে যে, আজকে এই পত্রিকায় একটি ভালো রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে, আমরা পারিনি, তাহলে ওই পত্রিকার উচিত হবে তার সাংবাদিকদের ওইভাবে সুযোগ দেওয়া যাতে তারাও একটি ভালো রিপোর্ট করতে পারে। কিন্তু, যারা ভালো করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন, এটা খুবই অরুচিকর। এটা মানুষের কাছে খুব হাস্যকর। আমি জানি না সচেতনভাবে এই প্রশ্ন করা হয়েছিল কি না। যদি করা হয়ে থাকে, তাহলে এটা খুবই দুঃখজনক হবে।
প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে একজন সাংবাদিকের কাজই সাংবাদিক করেছেন বলে মনে করেন শ্যামল দত্ত। তিনি বলেন, ‘আমি এর মধ্যে নেতিবাচক কিছু দেখি না। সাংবাদিকের কাজই তো হচ্ছে স্কুপ বের করা। সেই হিসেবে তারা সেটা করেছেন। এর মধ্যে অন্যায় কী আছে? সরকারের কাজ হচ্ছে, সেটা গোপন রাখা। সেটা তারা পারেনি। পৃথিবীতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে রিপোর্ট বের করে নেওয়া সোর্সের মাধ্যমে, এটা তো আমাদের একটা রীতিসম্মত কাজ। এটা আমি খারাপভাবে দেখছি না। এটা সাংবাদিকতারই অংশ। পৃথিবীতে উল্লেখযোগ্য রিপোর্ট যেগুলো হয়েছে, সবগুলোই এভাবে স্কুপ হিসেবে প্রকাশ হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেছেন, সেটা সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে— আমাদের কাজই তো এই রিপোর্ট খুঁজে বের করা। যারা এটা খুঁজে বের করতে পেরেছেন, আমি মনে করি তারা সার্থক।’
শ্যামল দত্ত বলেন, ‘এ বিষয়ে ব্যবস্থার নেওয়ার কথা যে বা যারা বলেছেন, কেন ব্যবস্থা নেবে? এটা কি নিষিদ্ধ কোনোকিছু ছিল যেটা প্রকাশ করা যাবে না? এটা তো নিষিদ্ধ কোনো ডকুমেন্ট না। আমরা পুরো বিষয়টি দেখব সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে। আমরা বিষয়টি প্রকাশ করেছি। যেটা সরকার মনে করেছিল এখন প্রকাশ করবে না। কিন্তু, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে তো অনেক লোক জড়িত। সুতরাং এটা কি আসলে গোপন রাখা যায়? কোন গণমাধ্যমকর্মী প্রশ্ন তুলেছেন, তা আমি জানি না। কিন্তু, যদি এসব প্রশ্ন তোলা হয়, তাহলে তো কেউ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে পারবে না। গোপন তথ্য, নথি— এগুলোর ভিত্তিতেই তো আমরা রিপোর্ট করি। পৃথিবীর কোন সাংবাদিকতা সাধারণ নিয়ম মেনে হয়েছে? যে আমাদেরকে নিউজ দেয়, সেই সোর্স কখনই কি আমরা ডিসক্লোজ করি? এই প্রোটেকশন তো আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে।
মূল কথা আমরা কোন কারণে করেছি? আমরা কি এমন কোনো কারণে করেছি যেখানে সমাজের বা ব্যক্তির স্বার্থ হানি হয়েছে? এটা তো গণমানুষের স্বার্থে করা হয়েছে যে ওই প্রতিবেদনে কী আছে তা তুলে ধরা’, যোগ করেন তিনি।

সুত্রঃ ডেইলি স্টার

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2559/feed 0
মিডিয়ার সামনে অশনি সংকেত সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হোন https://thedailyannadiganta.com/archives/2563 https://thedailyannadiganta.com/archives/2563#respond Fri, 17 Jul 2020 13:05:54 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2563 বর্তমানে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার দিনকাল ভালো যাচ্ছে না। অবাধ-তথ্য প্রবাহের এই যুগে আজ সংবাদপত্রের জন্য
সাংবাদিকদের জন্য অশনিসংকেত। আমার চোখে কালোমেঘের ঘনঘাটা চতুরদিকে। বাংলার আকাশে-বাতাসে অসংখ্য সাংবাদিকের আহাজারি। বেড রুমেও ক্ষত-বিক্ষত সাংবাদিক দম্পতির লাশ জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। এর বিচার এখনো আলোর মুখ দেখেনি। কিন্তু এর শেষ কোথায়?
দলবাজির সাংবাদিকতা সবকিছু গ্রাস করে নিচ্ছে lবাস্তবতাকে আড়াল করে মিডিয়ার বিকাশ সম্ভব নয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিতরে মিডিয়াকে কাজ করতে হবে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের জন্য। নিজস্ব দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে মিডিয়াকে আত্মজিজ্ঞাসা, আত্মোপলব্ধির জায়গাটুকু ধরে রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রস্তুতি নিতে হবে আগামীর চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু কী করে সম্ভব? আবার আদৌ সম্ভব হবে কিনা এমন অনেক প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জের এক কঠিনতম সময়
বিএমএসএফ এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর  বলেন , আমাদের চাওয়া হলো আগামী দিনের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা হোক মানুষের জন্য। চাই সাংবাদিক নির্যাতনমুক্ত আগামির বাংলাদেশ।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যদি নিরাপত্তা না দেয় তাহলে সাংবাদিকরা কীভাবে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করবেন? মিডিয়ার জন্য এখন অনেক আইন। হুমকি শুধু রাজনীতিবিদদের কাছ থেকেই সব সময় পাই তা নয়, জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদ তো রয়েছেই।
আমি একজন ক্ষুদ্র কলাম লেখক হিসেবে মনে করি এখনকার যুগেযুগে কমে যাচ্ছে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা।
কেন এ অবস্থা তৈরি হচ্ছে?মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ লিখলে মামলা হয়। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লিখলে তাদের মানহানি হয়।দেশের  সাংবাদিকদের সামনে দেখা দিচ্ছে এক অশনিসংকেত। করোনাকালের অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত প্রায় সব সংবাদকর্মীরা।দেশে যৌক্তিক কথা বললেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়া হচ্ছে। কথায় কথায় আটক করা হচ্ছে সাংবাদিকদের। চলছে নানা উপায়ে হয়রানি। সব মিলিয়ে মিডিয়ার জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে পড়ছে। অসহায় হয়ে পড়েছেন সাংবাদিকরা।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশেও করোনার আঘাত পড়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ও বাড়ছে। মৃতের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছেই। স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ গণমাধ্যমকর্মীরাও কাজ করছেন। জীবন ও জীবিকা সচল রাখার জন্য সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেসব দেশবাসীকে জানাতে অনলাইন মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া অন্যতম কাজ করছে।
অনলাইন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অনেক সংবাদকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারাও গেছেন অনেকে।ডিজিটাল আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার কাম্য নয়। সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে। আবার সাংবাদিকতার স্বাধীনতা মানেই স্বেচ্ছাচারিতা নয়, যা খুশি লিখে দেব তা নয়। দুই দিকেই একটা সীমা থাকবে। সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের যেমন বিরোধিতা করি, সেটা যার পক্ষ থেকেই আসুক না কেন। আবার সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতা ত্যাগ করে দায়িত্বজ্ঞানহীন সংবাদ প্রকাশ, ব্যক্তিকে আঘাত করে, সমাজে শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে এমনটাও করা উচিত নয়।প্রথম দিকে সাংবাদিকতার ওপর  যেসব আঘাত এসেছিল, তার প্রতিবাদ ও প্রতিহত করার জন্য কোনো সংঘবদ্ধ সাংবাদিকসমাজ তখনো গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে নির্যাতিত সাংবাদিকদের হয়ে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম।
সংবাদপত্র স্বাধীন, সাংবাদিকতার ওপর প্রকাশ্য বিধিনিষেধ নেই, কিন্তু সাংবাদিকেরা রয়ে গেলেন ঝুঁকিপর্ণ ও বিপদ্সংকুল। সাংবাদিক প্রাণ হারাতে লাগলেন, নির্যাতিত হতে থাকলেন, পঙ্গু হয়ে গেলেন। এসবের বিবরণ সবার জানা, কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করতে চায় নাl গত দুই সপ্তাহে দুইটি ঘটনা আমার কাছে খুব মর্মান্তিক মনে হচ্ছে তার মধ্যে একজন ভর্তি আছে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে সাংবাদিক শরিফুলl নির্যাতিত সাংবাদিক শরিফুল এর পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে বিএমএসএফl সম্প্রতি বিএমএসএফ’র সহযোগি সংগঠন হিসেবে কেন্দ্রিয় ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি। গঠিত হচ্ছে জেলা উপজেলায় একুশ সদস্যের শাখা কমিটি।
সাংবাদিকতা পেশায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারীরাও রয়েছেl কিন্তু বর্তমান যে অবস্থা তাতে করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিতরা সাংবাদিকতা পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে l কারণ সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা যতক্ষণ না পর্যন্ত উল্লেখ করা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সাংবাদিকতা পেশার মূল্যায়ন বাংলার জনগণের কাছে হবে নাl এবং সাংবাদিকদের সরকার কর্তৃক তালিকা প্রণয়ন না করা পর্যন্ত সাংবাদিকদের সমস্যা সমাধান হবে না l  সারা বাংলাদেশের সাংবাদিকরা যতক্ষণ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের কোন দাবি আদায় করা সম্ভব নয় l তাই আমি সকল সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলছি, নিশ্চিত সামনে সাংবাদিকদের অশনি সংকেত দেখা দিচ্ছে এখনো সময় আছে গ্রুপিং না করে সকল সাংবাদিক ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুনl পেশার মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুন।

মো: কবির নেওয়াজ রাজ
সম্পাদক,
মানুষের কল্যাণে প্রতিদিন।

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2563/feed 0