আন্দোলন – দৈনিক অন্যদিগন্ত https://thedailyannadiganta.com সত্য ও সুন্দরের খোঁজে প্রতিদিন Wed, 24 Jul 2024 15:19:37 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 https://thedailyannadiganta.com/wp-content/uploads/2023/04/cropped-onnodigonto_fav-32x32.jpg আন্দোলন – দৈনিক অন্যদিগন্ত https://thedailyannadiganta.com 32 32 চার দাবি জানিয়ে ফের দুদিনের আল্টিমেটাম আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের https://thedailyannadiganta.com/archives/2489 https://thedailyannadiganta.com/archives/2489#respond Wed, 24 Jul 2024 15:19:37 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2489 কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট যোগাযোগ স্বাভাবিক করা ও কারফিউ প্রত্যাহারসহ চারটি দাবি জানিয়ে সরকারকে ফের দুইদিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা এ দাবি জানান। এ সময় উপস্থিতি ছিলেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, সর্দার নাবিল মাহমুদ শুভ, হাসিব আল ইসলাম, মোমতাহিনা মাহজাবিন মোহনাসহ আট শিক্ষার্থী।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্য দুই দাবিগুলো হল—বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরিয়ে দিয়ে সরকার ও প্রশাসনের সমন্বয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে আবাসিক হল খুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফেরার পরিবেশ তৈরি এবং সারা দেশে যারা কোটা সংস্কার আন্দোলন সমন্বয় করেছেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি মূল আট দাবি নিয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা।
আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাদের এসব দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলন ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্র আন্দোলনের এ প্লাটফর্মটির এ নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যত লাশ পড়েছে সেটি অনাকাঙ্ক্ষিত। প্রজ্ঞাপনের আগে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজন ছিল। সেটি ছাড়া আমরা এ প্রজ্ঞাপনকে চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে গ্রহণ করব না। আমরা সব অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি নীতিনির্ধারণী সংলাপ চাচ্ছি। কোটা নিয়ে যাতে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি। এ প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে কিন্তু আমাদের আন্দোলন সম্পর্কযুক্ত নয়, আমরা আমাদের আন্দোলন থেকে সরে আসছি না। জনগণ আমাদের সঙ্গে নেমেছে, তাদের যে দাবি-দাওয়া, যে পরিমাণ হতাহত, তার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন অব্যহত রাখব।’
সারজিস আলম বলেন, ‘চারটি জরুরি দাবি জানিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টার একটি আলটিমেটাম দিয়েছিলাম, সেটি মানা হয়নি। আমরা আবারও দুইদিনের একটি আলটিমেটারম দিচ্ছি। বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে কথা বলে সে পরিবেশ তৈরি করা হোক, যাতে শুক্রবার আমরা সারা দেশের সব শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে পারি। শিক্ষার্থীরা এখন যদি ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে না পারি তাহলে একাডেমিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ, তা গালগল্পেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। আমাদের চারটি দাবি যদি মেনে নেয়া হয়, তাহলে যে আটটি দাবি রয়েছে সেগুলো নিয়ে কথা বলার পরিবেশ তৈরি হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের শিক্ষার পরিবেশ আবার সুন্দরভাবে ফিরে আসবে কি-না, ক্যাম্পাসে ফিরে যাব কি না, কবে আমাদের আন্দোলন শেষ করব; এটি পুরোপুরি সরকারের উপর নির্ভর করছে। আমাদের দাবিগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেনে নিয়ে গোটা দেশের পরিবেশ কতটুকু উপযোগী করা হচ্ছে তার উপর। সরকার যদি চায় এটি বৃহস্পতিবারই করে দিতে পারে, আবার যদি না চায় তাহলে আমাদের আন্দোলন অনির্দিষ্টকালের দিকে যেতে পারে। সে অনুযায়ী আন্দোলন কোনদিন শেষ হবে সেটি নির্ধারণ করবে সরকারই।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদের বাবা-মা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে সন্তানের সন্ধান দাবি করেন।

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2489/feed 0
হয়তো আর অল্প কিছুদিন থাকতে হবে: সেনাপ্রধান https://thedailyannadiganta.com/archives/2468 https://thedailyannadiganta.com/archives/2468#respond Wed, 24 Jul 2024 14:58:13 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2468 সেনাদের উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, আমাদের হয়ত আর অল্প কিছু দিন থাকতে হবে।বুধবার (২৪ জুলাই) শেরপুর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়ামে স্থাপিত সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, দেশের কিছু স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। মূল সমস্যা ছিল ঢাকায়। অল্প সময়ে আমরা সব নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক।
সেনাপ্রধান আরও জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অল্প সময়েই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। ঢাকা থেকে শেরপুর আসার পথে সড়কে যানবাহনসহ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক দেখেছি।

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2468/feed 0
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে ছয়দিনে যা হয়েছে দেশজুড়ে https://thedailyannadiganta.com/archives/2459 https://thedailyannadiganta.com/archives/2459#respond Wed, 24 Jul 2024 14:44:22 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2459 কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে দেশব্যাপী নজিরবিহীন নৈরাজ্য ও তাণ্ডবের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ জুলাই রাত থেকে ২৩ জুলাই রাত পর্যন্ত টানা পাঁচদিন সারাদেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলো। এই পরিস্থিতিতে গত কয়েক দিনের প্রধান ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হলো।
১৮ জুলাই
কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ শুরু হয় এদিন। কর্মসূচি চলাকালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। রাজধানীর উত্তরা, ধানমন্ডি, বাড্ডা, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সহিসংতায় প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়।
দুর্বৃত্তকারীরা রাজধানীর মহাখালীতে সেতু ভবন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ভবন, দুর্যোগ ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়। শতাধিক গাড়ি পোড়ানো হয়। আগুন দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনে। এর জেরে অন্তত ১২ ঘণ্টা বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ ছিলো। রাজধানীর বাড্ডায় পুলিশ সদস্যদের কোনঠাসা করে ফেলে আন্দোলনকারীরা। পরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে আশ্রয় নেয় পুলিশ। র‌্যাবের হেলিকপ্টার এসে তাদের উদ্ধার করে।এদিন সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায়। এর আগের দিন ১৭ জুলাই বন্ধ করা হয় দ্রুতগতির ফোরজি ইন্টারনেট সেবা। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সহিংসতায় সরকারের ডাটা সেন্টার পুড়ে যাওয়ার কারণে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে, তারা মেরামত করে দ্রুত লাইন চালুর চেষ্টা করছে।বিটিভি ভবনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা

১৯ জুলাই
দেশের অরাজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে কারফিউ জারি ও সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার দিনগত রাত ১২টা থেকে প্রথম দফায় শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কারফিউ ছিলো। এরপর দুই ঘণ্টা বিরতির পর বেলা দুইটা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারাদেশে কারফিউ চলে। একই সঙ্গে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সেনা মোতায়েন করা হয়।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে দুর্বৃত্তরা রাজধানীর মিরপুরের কাজীপাড়া ও ১০ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন, এলিভেডেট এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এ দিন নরসিংদীর জেলা কারাগারে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। অরাজকতার সুযোগ নিয়ে গেট ভেঙে ৮২৬ জন কয়েদি পালিয়ে যায়। লুট করা হয় অস্ত্র। পালিয়ে যাওয়া কয়েদিদের মধ্যে আনসরুল্লাহ বাংলা টিমের সাত সদস্য ও জেএমবি’র দুই নারী সদস্যও রয়েছে। এসময় ৮৫টি অস্ত্র ও এক হাজার ৫০টি গুলি ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
১৯ জুলাই রাত আড়াইটার দিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আট দফা দাবি তুলে ধরেন কোটা আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক। তারা জানান, আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। অবশ্য এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় ৯ দফা দাবির কথা জানান। দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন।

২০ জুলাই
সরকারি সিদ্ধান্তে এ দিন দেশজুড়ে কারফিউ দেওয়া হয়। শুক্রবার দিনগত রাত ১২টায় শুরু হওয়া কারফিউ এদিন দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত শিথিল ছিলো। কারফিউ চলাকালে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সেনা মোতায়েন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে।
কারফিউ চলাকালেও এদিন ঢাকার যাত্রাবাড়ি, উত্তরা, বাড্ডা ও মিরপুরে সড়ক অবরোধের চেষ্টা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। রাজধানীর বাইরেও কয়েকটি স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে। মেট্রোরেলের কাজীপাড়া ও মিরপুর ১০ স্টেশনে ভাঙচুর করা হয়।
এদিন সরকার ২১ ও ২২ জুলাই দুই দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। সরকার নির্বাহী আদেশে এ ছুটি ঘোষণা করেছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। পরে অবশ্য সাধারণ ছুটি আরও একদিন বাড়িয়ে ২৩ জুলাইও ছুটির আওতায় আনা হয়।
মিরপুর ১০ নম্বরে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগ।

২১ জুলাই
সরকার পক্ষের আপিল আবেদনের পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে হাইকোট বিভাগের রায় বাতিল করেন। একইসঙ্গে আপিল বিভাগ সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে ৯৩ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধা/বীরঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করে দেয়। মুক্তিযোদ্ধার কোটা কেবল তাদের সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এ ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধারের নাতিপুতিরা বিবেচ্য হবেন না। আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারকে প্রজ্ঞাপন জারি করতে আদেশ দেওয়া হয়।
বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫৬ সমন্বয়কের যৌথ বিবৃতি শিরোনামে একটি ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হয়। এতে কমপ্লিট শাটডাউন আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
নজিরবিহীন নৈরাজ্য দেশজুড়ে, কারফিউ জারিনজিরবিহীন নৈরাজ্য দেশজুড়ে, কারফিউ জারি।

২২ জুলাই
সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরির সব গ্রেডে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের আদেশের পর সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা ছাত্রদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে হামলা-অগ্নিসন্ত্রাস করেছে মন্তব্য করে ওই মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে ছাত্রদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখনও তারা জ্বালাও-পোলাও আন্দোলনের হুকুম দিয়ে যাচ্ছে। যারা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, এত সহজে ছাড়া হবে না। শক্ত অ্যাকশন নিয়ে এটা দমন করে পরিবেশটা উন্নত করা হবে।
সরকার বাধ্য হয়ে কারফিউ ও সেনা মোতায়েন করেছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এটা আমরা চাই না। তারা (ছাত্ররা) যখন সরে এসেছে সেই সময় আমি আর্মি নামিয়েছি। আমি কিন্তু তার আগে আর্মি নামাইনি। আমরা শেষ চেষ্টা করি রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে। তারপর আর্মি নামাতে বাধ্য হয়েছি। কারফিউ দিয়েছি। আস্তে আস্তে কারফিউ শিথিল করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
পাঁচ দিন পর নিয়ন্ত্রণে যাত্রাবাড়ী: আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির ঘোষণার দিন সন্ধ্যা থেকেই যাত্রাবাড়ী এলাকায় সংঘাত-সংঘর্ষ শুরু হয়। থেমে থেমে এটি চলে ২২ জুলাই পর্যন্ত। আদালতের শুনানির আগের দিন ২০ জুলাই সারা দেশে কারফিউ জারি ও সেনা মোতায়েন হলেও যাত্রাবাড়ী এলাকায় কারফিউয়ের মধ্যেও সংঘর্ষ চলতে থাকে। এ এলাকা কারফিউর দ্বিতীয় দিনে ২১ জুলাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে সেখানে সেনা ও পুলিশ প্রধানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা পরিদর্শনে যান।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় তিন পুলিশ সদস্য নিহত হয় বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। এছাড়া ১১৭ জন পুলিশ আহত হয়েছেন বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি জানান, আহতের মধ্যে ১৩২ জন গুরুতর আহত হন এবং তিন জন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন।

২৩ জুলাই
সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের আদেশের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। একইসঙ্গে ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নিয়োগে ৯৩ শতাংশ মেধা, ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য নির্ধারণ করা হয়। নতুন এই বিধান নবম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধার ভিত্তিতে শূন্য আসন পূরণ করা হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট সেবা চালু: পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট সেবা চালু হয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। ২৩ জুলাই রাতে ব্রডব্যান্ড লাইনের ইন্টারনেট চালু করা হয়। তবে মোবাইলের ইন্টারনেট সেবা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চালু হয়নি।
কোটা আন্দোলনকারীরা বৃহস্পতিবার থেকে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণার পরই ওইদিন থেকে সারাদেশে ব্যাপক নাশকতা হয়। বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, আগুন ও লুটপাটের পাশাপাশি পুড়িয়ে দেওয়া সাধারণ নাগরিকদের যানবাহনও।
প্রায় দুইদন ধরে চলে অরাজকতা। বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। হামলা, তাণ্ডব ও নাশকতার চিত্র তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিটিভি ভবনে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শতাধিক গাড়ি পোড়ানো হয়। সেখানেও আগুন দেওয়া হয়েছে।
সেতু ভবনে দুবার আগুন দেওয়া হয়। সেখানে ৫০টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির কার্যালয়ে হামলা করা হয়েছে।
ফার্মগেটে মেট্রোরেল স্টেশন ভাঙচুর।
দিয়াবাড়ি মেট্রোরেলের ডিপোতে হামলা।
শনির আখড়ায় মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের টোলপ্লাজায় আগুন ও ভাঙচুর।
বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে হামলা ও আগুন।
ধানমন্ডির পিটিআইয়ের অফিসে হামলা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসে হামলা-ভাঙচুর ও শতাধিক গাড়িতে আগুন।
মহাখালীর ডাটা সেন্টারে হামলা ও অগ্নি সংযোগ করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
সাবমেরিন কেবল নষ্ট করা হয়।
মহাখালী করোনা হাসপাতাল, পুষ্টি ইনস্টিটিউট, স্বাস্থ্য অধিদফতর, বিআরটিএ ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে।
আফতাবনগর ওয়াসা শোধনাগারে হামলা।
বাড্ডা, নিউমার্কেট ও নীলক্ষেতে পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগভ
রায়পুর পুলিশ কেন্দ্রে হামলা ও অগ্নিসংযোগ।
রামপুরা থানা পুলিশে অগ্নিসংযোগ।
মেরাদিয়া পিবিআই কার্যালয় ভাঙচুর।
উত্তরায় রেললাইন উপড়ে ফেলা।
মৌচাক পুলিশ বক্স; বসিলায় সিটি হাসপাতালে হামলা।
কদমতলী, মোহাম্মদপুর থানায় হামলা; বরিশালে র‌্যাবের কার্যালয়ে হামলা।
গাড়ির ভেতরে র‌্যাব সদস্যকে হত্যা করা; পুলিশকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
ফকিরাপুল পুলিশ বক্স ভাঙচুর।
উত্তরা পুলিশের ডিসির কার্যালয় ও টিএসটির আঞ্চলিক অফিস।
টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ কার্যালয়।
মধুপুর ও কালিহাতি উপজেলার দলের কার্যালয়।
গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে আহত করা।
জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও ১১টি মোটরসাইকেল পোড়ানো।
গাইবান্ধায় রেললাইন উপড়ে ফেলা ও অগ্নি-সংযোগ।
বগুড়ায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যালয় ভাঙচুর ও লুটপাট।
জাসদ কার্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, সাংস্কৃতিক জোটের কার্যালয়, পুলিশবক্স, সদর ভূমি অফিস, রেল স্টেশন, সরকারি শাহ সুলতান কলেজ, সদর থানা, সিটি ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকে ভাঙচুর।
কোনাবাড়ি থানা এবং ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর।
কোনাবাড়ি পুলিশ থানা, বাসন থানার চৌরাস্তা পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও আগুন।
গাছায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে আগুন দিয়ে ২০টি গাড়ি পুড়িয়ে ফেলা; ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ।
টঙ্গীতে ডেসকোর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ।
বেক্সিমকো গার্মেন্টসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর।
টঙ্গী পূর্ব থানায় হামলা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা হাসপাতালে হামলা ও অগ্নিসংযোগ।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অফিসে হামলা।
নারায়ণগঞ্জে আগুন দিয়ে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিকে পুড়িয়ে দেয়া হয়।

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2459/feed 0
মেরুল বাড্ডায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান, যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ https://thedailyannadiganta.com/archives/2425 https://thedailyannadiganta.com/archives/2425#respond Thu, 18 Jul 2024 07:05:52 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2425 কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে ‘কমপ্লিট শাটডাউনে’র অংশ হিসেবে রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকায় অবস্থান নিয়েছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কয়েকশ শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করছেন। এতে মেরুল বাড্ডা এলাকায় যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার পর শিক্ষার্থীরা রস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ শিক্ষার্থী ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রাস্তা অবরোধ করে রেখেছেন। এ সময় মেরুল বাড্ডা এলাকা দিয়ে যাতায়াতকারী সব যানবাহনের চলাচল বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের কারণে রাস্তায় শত শত যানবাহন আটকে আছে। আন্দোলন থেকে শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগান দিয়ে যাচ্ছেন।
গতকাল রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শনির আখড়ায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে তিনি বলেন, উচ্চ আদালত থেকে ছাত্রসমাজ ন্যায়বিচার পাবে এবং তাদের হতাশ হতে হবে না।
এরপর দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। কর্মসূচি অনুযায়ী, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকবে এবং রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো যানবাহন চলবে না বলে জানানো হয়।

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2425/feed 0
শাটডাউন কর্মসূচিতে বিএনপির সমর্থন https://thedailyannadiganta.com/archives/2422 https://thedailyannadiganta.com/archives/2422#respond Wed, 17 Jul 2024 18:41:38 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2422 কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ডাকা সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি। বুধবার (১৭ জুলাই) রাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের ন্যায্য এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ ও সশস্ত্র ছাত্রলীগের হিংস্র আক্রমণে ৭ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আজও আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর র‌্যাব-পুলিশ-বিজেপির ব্যাপক হামলায় অনেকেই আহত হয়েছে। এই রক্তাক্ত হামলায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি চাকরি কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিতে সর্বাত্মক সমর্থন জানানো হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা যে কর্মসূচি দিয়েছে তাতে বিএনপি সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়েছে।
একইসঙ্গে ‘কমপ্লিট শাটডাউনে কর্মসূচিতে’ দেশের আপামর জনগণকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, আমি বিএনপির পক্ষ থেকে এই কর্মসূচিতে জনগন অংশগ্রহণের জন্য জোরাল আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জোট ও দলগুলোর সঙ্গে গত ছয়দিন ধারাবাহিক বৈঠকের পরে বুধবার এই কর্মসূচি ঘোষণা হলো।

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2422/feed 0