কোটা আন্দোলন – দৈনিক অন্যদিগন্ত https://thedailyannadiganta.com সত্য ও সুন্দরের খোঁজে প্রতিদিন Wed, 24 Jul 2024 15:52:02 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 https://thedailyannadiganta.com/wp-content/uploads/2023/04/cropped-onnodigonto_fav-32x32.jpg কোটা আন্দোলন – দৈনিক অন্যদিগন্ত https://thedailyannadiganta.com 32 32 ফুটেজ দেখে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে: ডিবিপ্রধান https://thedailyannadiganta.com/archives/2515 https://thedailyannadiganta.com/archives/2515#respond Wed, 24 Jul 2024 15:00:35 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2515 কোটা আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
বুধবার (২৪ জুলাই) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
হারুন বলেন,আন্দোলনের নামে ঢাকা মহানগরীতে সরকারি স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর, সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে। মনোবল ভাঙতে পুলিশকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ডাটা সেন্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালায়। হামলার রসদ সরবরাহ করার তথ্য-প্রমাণ আমাদের হাতে আছে।
তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির ও বিএনপির কিছু নেতা টাকা-পয়সা দিয়ে বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক সংগ্রহ করেছে। এরপর মহাখালীতে জড়ো হয়ে সেতু ভবনে ঢুকে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
ডিবিপ্রধান বলেন, একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে কীভাবে আগুন লাগাচ্ছে এবং মালামাল লুট করে নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অনেকের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। দ্রুত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে।
হারুন বলেন, যেসব স্থাপনার হামলা চালানো হয়েছিল, সব জায়গায় গান পাউডার দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে তারা। কীভাবে, কার মাধ্যমে তারা গান পাউডার ও অস্ত্র এনেছে বের করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ মারার জন্য টাকা ও আগুন দেওয়ার জন্যও টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল তারা। কে নির্দেশনা দিয়েছে, কারা অর্থায়ন করেছে সব বের করা হবে।

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2515/feed 0
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে ছয়দিনে যা হয়েছে দেশজুড়ে https://thedailyannadiganta.com/archives/2459 https://thedailyannadiganta.com/archives/2459#respond Wed, 24 Jul 2024 14:44:22 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2459 কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে দেশব্যাপী নজিরবিহীন নৈরাজ্য ও তাণ্ডবের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ জুলাই রাত থেকে ২৩ জুলাই রাত পর্যন্ত টানা পাঁচদিন সারাদেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলো। এই পরিস্থিতিতে গত কয়েক দিনের প্রধান ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হলো।
১৮ জুলাই
কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ শুরু হয় এদিন। কর্মসূচি চলাকালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। রাজধানীর উত্তরা, ধানমন্ডি, বাড্ডা, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সহিসংতায় প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়।
দুর্বৃত্তকারীরা রাজধানীর মহাখালীতে সেতু ভবন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ভবন, দুর্যোগ ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়। শতাধিক গাড়ি পোড়ানো হয়। আগুন দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনে। এর জেরে অন্তত ১২ ঘণ্টা বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ ছিলো। রাজধানীর বাড্ডায় পুলিশ সদস্যদের কোনঠাসা করে ফেলে আন্দোলনকারীরা। পরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে আশ্রয় নেয় পুলিশ। র‌্যাবের হেলিকপ্টার এসে তাদের উদ্ধার করে।এদিন সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায়। এর আগের দিন ১৭ জুলাই বন্ধ করা হয় দ্রুতগতির ফোরজি ইন্টারনেট সেবা। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সহিংসতায় সরকারের ডাটা সেন্টার পুড়ে যাওয়ার কারণে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে, তারা মেরামত করে দ্রুত লাইন চালুর চেষ্টা করছে।বিটিভি ভবনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা

১৯ জুলাই
দেশের অরাজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে কারফিউ জারি ও সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার দিনগত রাত ১২টা থেকে প্রথম দফায় শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কারফিউ ছিলো। এরপর দুই ঘণ্টা বিরতির পর বেলা দুইটা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারাদেশে কারফিউ চলে। একই সঙ্গে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সেনা মোতায়েন করা হয়।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে দুর্বৃত্তরা রাজধানীর মিরপুরের কাজীপাড়া ও ১০ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন, এলিভেডেট এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এ দিন নরসিংদীর জেলা কারাগারে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। অরাজকতার সুযোগ নিয়ে গেট ভেঙে ৮২৬ জন কয়েদি পালিয়ে যায়। লুট করা হয় অস্ত্র। পালিয়ে যাওয়া কয়েদিদের মধ্যে আনসরুল্লাহ বাংলা টিমের সাত সদস্য ও জেএমবি’র দুই নারী সদস্যও রয়েছে। এসময় ৮৫টি অস্ত্র ও এক হাজার ৫০টি গুলি ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
১৯ জুলাই রাত আড়াইটার দিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আট দফা দাবি তুলে ধরেন কোটা আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক। তারা জানান, আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। অবশ্য এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় ৯ দফা দাবির কথা জানান। দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন।

২০ জুলাই
সরকারি সিদ্ধান্তে এ দিন দেশজুড়ে কারফিউ দেওয়া হয়। শুক্রবার দিনগত রাত ১২টায় শুরু হওয়া কারফিউ এদিন দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত শিথিল ছিলো। কারফিউ চলাকালে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সেনা মোতায়েন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে।
কারফিউ চলাকালেও এদিন ঢাকার যাত্রাবাড়ি, উত্তরা, বাড্ডা ও মিরপুরে সড়ক অবরোধের চেষ্টা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। রাজধানীর বাইরেও কয়েকটি স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে। মেট্রোরেলের কাজীপাড়া ও মিরপুর ১০ স্টেশনে ভাঙচুর করা হয়।
এদিন সরকার ২১ ও ২২ জুলাই দুই দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। সরকার নির্বাহী আদেশে এ ছুটি ঘোষণা করেছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। পরে অবশ্য সাধারণ ছুটি আরও একদিন বাড়িয়ে ২৩ জুলাইও ছুটির আওতায় আনা হয়।
মিরপুর ১০ নম্বরে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগ।

২১ জুলাই
সরকার পক্ষের আপিল আবেদনের পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে হাইকোট বিভাগের রায় বাতিল করেন। একইসঙ্গে আপিল বিভাগ সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে ৯৩ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধা/বীরঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করে দেয়। মুক্তিযোদ্ধার কোটা কেবল তাদের সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এ ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধারের নাতিপুতিরা বিবেচ্য হবেন না। আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারকে প্রজ্ঞাপন জারি করতে আদেশ দেওয়া হয়।
বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫৬ সমন্বয়কের যৌথ বিবৃতি শিরোনামে একটি ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হয়। এতে কমপ্লিট শাটডাউন আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
নজিরবিহীন নৈরাজ্য দেশজুড়ে, কারফিউ জারিনজিরবিহীন নৈরাজ্য দেশজুড়ে, কারফিউ জারি।

২২ জুলাই
সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরির সব গ্রেডে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের আদেশের পর সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা ছাত্রদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে হামলা-অগ্নিসন্ত্রাস করেছে মন্তব্য করে ওই মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে ছাত্রদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখনও তারা জ্বালাও-পোলাও আন্দোলনের হুকুম দিয়ে যাচ্ছে। যারা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, এত সহজে ছাড়া হবে না। শক্ত অ্যাকশন নিয়ে এটা দমন করে পরিবেশটা উন্নত করা হবে।
সরকার বাধ্য হয়ে কারফিউ ও সেনা মোতায়েন করেছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এটা আমরা চাই না। তারা (ছাত্ররা) যখন সরে এসেছে সেই সময় আমি আর্মি নামিয়েছি। আমি কিন্তু তার আগে আর্মি নামাইনি। আমরা শেষ চেষ্টা করি রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে। তারপর আর্মি নামাতে বাধ্য হয়েছি। কারফিউ দিয়েছি। আস্তে আস্তে কারফিউ শিথিল করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
পাঁচ দিন পর নিয়ন্ত্রণে যাত্রাবাড়ী: আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির ঘোষণার দিন সন্ধ্যা থেকেই যাত্রাবাড়ী এলাকায় সংঘাত-সংঘর্ষ শুরু হয়। থেমে থেমে এটি চলে ২২ জুলাই পর্যন্ত। আদালতের শুনানির আগের দিন ২০ জুলাই সারা দেশে কারফিউ জারি ও সেনা মোতায়েন হলেও যাত্রাবাড়ী এলাকায় কারফিউয়ের মধ্যেও সংঘর্ষ চলতে থাকে। এ এলাকা কারফিউর দ্বিতীয় দিনে ২১ জুলাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে সেখানে সেনা ও পুলিশ প্রধানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা পরিদর্শনে যান।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় তিন পুলিশ সদস্য নিহত হয় বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। এছাড়া ১১৭ জন পুলিশ আহত হয়েছেন বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি জানান, আহতের মধ্যে ১৩২ জন গুরুতর আহত হন এবং তিন জন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন।

২৩ জুলাই
সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের আদেশের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। একইসঙ্গে ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নিয়োগে ৯৩ শতাংশ মেধা, ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য নির্ধারণ করা হয়। নতুন এই বিধান নবম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধার ভিত্তিতে শূন্য আসন পূরণ করা হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট সেবা চালু: পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট সেবা চালু হয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। ২৩ জুলাই রাতে ব্রডব্যান্ড লাইনের ইন্টারনেট চালু করা হয়। তবে মোবাইলের ইন্টারনেট সেবা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চালু হয়নি।
কোটা আন্দোলনকারীরা বৃহস্পতিবার থেকে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণার পরই ওইদিন থেকে সারাদেশে ব্যাপক নাশকতা হয়। বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, আগুন ও লুটপাটের পাশাপাশি পুড়িয়ে দেওয়া সাধারণ নাগরিকদের যানবাহনও।
প্রায় দুইদন ধরে চলে অরাজকতা। বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। হামলা, তাণ্ডব ও নাশকতার চিত্র তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিটিভি ভবনে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শতাধিক গাড়ি পোড়ানো হয়। সেখানেও আগুন দেওয়া হয়েছে।
সেতু ভবনে দুবার আগুন দেওয়া হয়। সেখানে ৫০টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির কার্যালয়ে হামলা করা হয়েছে।
ফার্মগেটে মেট্রোরেল স্টেশন ভাঙচুর।
দিয়াবাড়ি মেট্রোরেলের ডিপোতে হামলা।
শনির আখড়ায় মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের টোলপ্লাজায় আগুন ও ভাঙচুর।
বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে হামলা ও আগুন।
ধানমন্ডির পিটিআইয়ের অফিসে হামলা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসে হামলা-ভাঙচুর ও শতাধিক গাড়িতে আগুন।
মহাখালীর ডাটা সেন্টারে হামলা ও অগ্নি সংযোগ করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
সাবমেরিন কেবল নষ্ট করা হয়।
মহাখালী করোনা হাসপাতাল, পুষ্টি ইনস্টিটিউট, স্বাস্থ্য অধিদফতর, বিআরটিএ ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে।
আফতাবনগর ওয়াসা শোধনাগারে হামলা।
বাড্ডা, নিউমার্কেট ও নীলক্ষেতে পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগভ
রায়পুর পুলিশ কেন্দ্রে হামলা ও অগ্নিসংযোগ।
রামপুরা থানা পুলিশে অগ্নিসংযোগ।
মেরাদিয়া পিবিআই কার্যালয় ভাঙচুর।
উত্তরায় রেললাইন উপড়ে ফেলা।
মৌচাক পুলিশ বক্স; বসিলায় সিটি হাসপাতালে হামলা।
কদমতলী, মোহাম্মদপুর থানায় হামলা; বরিশালে র‌্যাবের কার্যালয়ে হামলা।
গাড়ির ভেতরে র‌্যাব সদস্যকে হত্যা করা; পুলিশকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
ফকিরাপুল পুলিশ বক্স ভাঙচুর।
উত্তরা পুলিশের ডিসির কার্যালয় ও টিএসটির আঞ্চলিক অফিস।
টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ কার্যালয়।
মধুপুর ও কালিহাতি উপজেলার দলের কার্যালয়।
গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে আহত করা।
জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও ১১টি মোটরসাইকেল পোড়ানো।
গাইবান্ধায় রেললাইন উপড়ে ফেলা ও অগ্নি-সংযোগ।
বগুড়ায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যালয় ভাঙচুর ও লুটপাট।
জাসদ কার্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, সাংস্কৃতিক জোটের কার্যালয়, পুলিশবক্স, সদর ভূমি অফিস, রেল স্টেশন, সরকারি শাহ সুলতান কলেজ, সদর থানা, সিটি ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকে ভাঙচুর।
কোনাবাড়ি থানা এবং ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর।
কোনাবাড়ি পুলিশ থানা, বাসন থানার চৌরাস্তা পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও আগুন।
গাছায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে আগুন দিয়ে ২০টি গাড়ি পুড়িয়ে ফেলা; ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ।
টঙ্গীতে ডেসকোর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ।
বেক্সিমকো গার্মেন্টসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর।
টঙ্গী পূর্ব থানায় হামলা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা হাসপাতালে হামলা ও অগ্নিসংযোগ।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অফিসে হামলা।
নারায়ণগঞ্জে আগুন দিয়ে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিকে পুড়িয়ে দেয়া হয়।

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2459/feed 0
বিএনপি মধ্যযুগীয় কায়দায় আ.লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে : ওবায়দুল কাদের https://thedailyannadiganta.com/archives/2453 https://thedailyannadiganta.com/archives/2453#respond Thu, 18 Jul 2024 08:18:00 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2453 শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর আজ থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিপরীতে বিএনপি-জামায়াত তাদের পুরোনো আগুন সন্ত্রাস নিয়ে মাঠে নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। প্রথম থেকেই পুলিশ সহনীয় ভূমিকা পালন করেছে। যার কারণে রাষ্ট্রপতি বরাবর শিক্ষার্থীরা তাদের স্মারকলিপি সরাসরি প্রদান করতে পেরেছেন।
তিনি জানান, বিএনপি মধ্যযুগীয় কায়দায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অসংখ্য স্থানে ছাত্রলীগের ওপর নির্যাতন করেছে। যেখাবে প্রায় ৩০০-এর মতো আহত হয়েছে, অনেকে আশঙ্কাজনক। ছাত্রলীগের নারী শিক্ষার্থীদের ওপরও হামলা চালিয়েছে। মেয়েদের বেধড়ক পিটিয়েছে। পুলিশ, সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালিয়েছে।
এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবির নানক; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, মাহবুবউল আলম হানিফ; সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, আহমদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, সুজিত রায় নন্দি; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ ও দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2453/feed 0
পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র নারীর গায়ে হাত তোলা সমর্থন করে না: মেহজাবীন https://thedailyannadiganta.com/archives/2443 https://thedailyannadiganta.com/archives/2443#respond Thu, 18 Jul 2024 07:15:50 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2443 কোটা সংস্কার আন্দোলনে চলমান কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে গত কয়েক দিনে শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছেন। নারী শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে। যা দেখে পোস্ট করে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন অভিনেতা-অভিনেত্রী, খেলোয়াড়সহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ। এই সারিতে এবার যোগ দিয়েছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। নিজের ফেরিফায়েড পেজ এ দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে তিনি কোরআন-হাদিসের রেফারেন্সসহ নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহারের বিষয় তুলে ধরেছেন।
পোস্ট এ মেহজাবীন লিখেন, ছোটবেলা থেকে জেনেছি, পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র নারীর গায়ে হাত তোলা সমর্থন করেনা। আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থও কখনো নারীর প্রতি সহিংসতা শেখায়নি। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো’। হাদীসে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক ভালো মানুষ তারাই, যারা নারীদের সঙ্গে সদাচরণ করে’। অথচ আমাদের দুর্ভাগ্য, গণমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে আজকাল এর ভিন্ন চিত্র, মর্মান্তিক সব ভিডিও চিত্র দেখতে হচ্ছে। একজন নয়, দুইজন নয়, আমারই অসংখ্য বোনের ওপর নির্বিকার ভঙ্গিতে হামলা চালানো হচ্ছে, রক্তাক্ত করা হচ্ছে।
কী নির্মম, কী নৃশংস! ন্যায়-অন্যায়ের প্রসঙ্গে পরে আসছি, তবে আমার অবস্থান থেকে বলবো: সর্বোচ্চ কোনো যুক্তির অজুহাতেও নারীর প্রতি এই সহিংসতা মেনে নেয়া যায় না। ‘না’ মানে ‘না’; কক্ষনো না। ছাত্র-ছাত্রীরা কি-ই বা করেছিল? তারা তাদের অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছিল।
কোটা সংস্কারের দাবী তুলেছিল। তাই তো? একটি গণতান্ত্রিক দেশে স্ব-অধিকারের দাবি যে কেউ তুলতে পারে। কিন্তু তাই বলে নারীর গায়ে হাত তোলা, ‘আবু সাঈদ’-এর মতো সম্ভাবনাময় তরুণকে হত্যা করা-এসব কি সভ্যতার পর্যায়ে পড়ে? সমাধানের অন্য কোনো উপায় কি ছিল না? গুলি কেন করতে হলো? পরিস্থিতি হয়ত আজ কিংবা কাল স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু যে মায়ের বুক খালি হলো, যে পরিবারের মুখের হাসি চলে গেল, আমরা কি সেই শূণ্যতা অন্য কিছুর বিনিময়ে পূর্ণ করতে পারব? কক্ষনো না। তাছাড়া ইতিহাস সাক্ষী: শক্তি যত বড়-ই হোক, ছাত্র সমাজের ওপর চড়াও হয়ে যুগে যুগে কেউ কখনো কিছুই অর্জণ করতে পারেনি। তাহলে কেন এই ব্যর্থ আস্ফালন?

 

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ কিংবা আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা সবসময়ই বুকের ভেতর লালন করি। আমরা গর্ব করি বীর মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের প্রাণের বিনিময়ে আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু এই দেশে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করা যাবে না, অধিকারের দাবি তোলা যাবে না, সবকিছুর ঊর্ধ্বে যোগ্যতার পরিচয়টাকেই সবচেয়ে বড় করে দেখা যাবে না, প্রশাসনের চাওয়া-পাওয়ার বিরুদ্ধে গেলেই হামলার শিকার হতে হবে, অকাতরে অকাল প্রাণ বিলিয়ে দিতে হবে-এমন বাংলাদেশের স্বপ্ন কি আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেখেছিলেন? আমার মনে হয় না।
দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে দুর্নীতি-প্রায় সব ইস্যুতেই তো আমরা চুপ থাকি। রক্ষক ভক্ষক হয়ে গেলেও আমরা নিরবে সয়ে যাই। অপেক্ষা করি, হয়ত একটা না একটা সমাধান আসবে। আজ না হলেও দুদিন পরে আসবে। অন্যান্য ইস্যুতে আমরা সামাজিক মাধ্যমেও এতটা সোচ্চার হই না। তাহলে ইদানিং কেন হচ্ছি? কেন কোটা সংস্কার ইস্যুতে দলমত নির্বিশেষে আমাদের মতো সাধারণ জনগণ সরকারের পদক্ষেপের নিন্দা করছি? কারণ একটাই: কোটা সংস্কার এখন সময়ের দাবি। যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধান জরুরি।
ভুলে গেলে চলবে না, আমরা এই সাধারণ জনগণই কিন্তু মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, উড়াল সেতু ইত্যাদিসহ সরকারের অনেক যুগান্তকারি সাফল্যে গর্বিত হয়ে হাত তালি দিয়েছিলাম। গালভরা প্রশংসা করেছিলাম। সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছিলাম। নিশ্চয়ই ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি মেনে কোটা সংস্কার হবার পর আমরা পুনরায় সরকারের পাশে দাঁড়াব। এক পক্ষ হয়ে দেশের সব সমস্যার সমাধান করার জন্য সরকারকে সহযোগিতা করব। সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। অর্থাৎ সব কথার শেষ কথা: ছাত্ররা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। দমিয়ে না রেখে তাদের যৌক্তিক দাবীতে সমর্থন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আমি মেহজাবীন চৌধুরী আকুল আবেদন করছি। আমার বিশ্বাস, আমরা নিরাশ হবো না।

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2443/feed 0
আবারও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়ে কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গ https://thedailyannadiganta.com/archives/2431 https://thedailyannadiganta.com/archives/2431#respond Thu, 18 Jul 2024 07:15:09 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2431 কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। যে আন্দোলনের পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলছেন অনেকেই। এবার শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার (১৭ জুলাই) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কোটা আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানান দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।
ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে চলমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং ছাত্রলীগ নিয়ে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক।
যার জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, এই বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কোনো কথা বলব না। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর যে সহিংসতা হচ্ছে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নজরে রাখছে। প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণভাবে করার বিষয়েও আমরা অব্যাহত আহ্বান জানিয়েছি। একইসঙ্গে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে যেকোনো ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানাই আমরা।
এর আগে সোমবার (১৫ জুলাই) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে কোটা আন্দোলনের প্রসঙ্গ উঠানো হয়।
ওই দিন মিলার বলেন, ঢাকা ও আশপাশে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভের বিষয়ে আমরা জেনেছি এবং পর্যবেক্ষণ করছি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ যে কোনো বিকাশমান গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত। আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর যে কোনো সহিংসতার নিন্দা করি। যারা এই সহিংসতার শিকার হয়েছেন তাদের নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2431/feed 0
আবু সাঈদের পরিবারের পাশে সঙ্গীতশিল্পী তাসরিফ https://thedailyannadiganta.com/archives/2428 https://thedailyannadiganta.com/archives/2428#respond Thu, 18 Jul 2024 06:06:47 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2428 কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারানো বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী তাসরিফ খান।
বুধবার (১৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে আবু সাঈদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানান তাসরিফ।
পোস্টের মাধ্যমে জানা যায়, নিহত আবু সাঈদের মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে তার। এ সময় নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তাসরিফ জানান, ‘কিছুক্ষণ আগে আবু সাঈদ ভাইয়ের আম্মার সঙ্গে কথা হয়েছে। একে তো ছেলে হারিয়েছেন আরেকদিকে বিভিন্ন ইন্টারভিউ দিতে দিতে উনি একেবারে ক্লান্ত! আমাদের এক ছোটবোন তাদের বাসায় গিয়েছিল। তার মাধ্যমে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী ভালোবাসা পাঠিয়ে এই পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।
পোস্টে আবু সাঈদের মতো হতাহত অন্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে অনুসারীদের আহ্বান জানান তাসরিফ, ‘আপনাদের উদ্দেশ্যে বলবো আবু সাঈদ ভাই একা নন। আরও অনেক মায়ের কোল খালি হয়েছে। সবাই এক জায়গায় জড়ো না হয়ে সম্ভব হলে আপনারা তাদের পাশেও দাঁড়িয়েন। যখন যেখানে সুযোগ হবে আমি সেখানেই ছুটে গিয়ে চেষ্টা করবো নিজের মতো করে কিছু একটা করে দেবার। আর কোনো মায়ের কোল খালি না হোক।

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2428/feed 0
শাটডাউন কর্মসূচিতে বিএনপির সমর্থন https://thedailyannadiganta.com/archives/2422 https://thedailyannadiganta.com/archives/2422#respond Wed, 17 Jul 2024 18:41:38 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2422 কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ডাকা সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি। বুধবার (১৭ জুলাই) রাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের ন্যায্য এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ ও সশস্ত্র ছাত্রলীগের হিংস্র আক্রমণে ৭ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আজও আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর র‌্যাব-পুলিশ-বিজেপির ব্যাপক হামলায় অনেকেই আহত হয়েছে। এই রক্তাক্ত হামলায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি চাকরি কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিতে সর্বাত্মক সমর্থন জানানো হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা যে কর্মসূচি দিয়েছে তাতে বিএনপি সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়েছে।
একইসঙ্গে ‘কমপ্লিট শাটডাউনে কর্মসূচিতে’ দেশের আপামর জনগণকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, আমি বিএনপির পক্ষ থেকে এই কর্মসূচিতে জনগন অংশগ্রহণের জন্য জোরাল আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জোট ও দলগুলোর সঙ্গে গত ছয়দিন ধারাবাহিক বৈঠকের পরে বুধবার এই কর্মসূচি ঘোষণা হলো।

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2422/feed 0
বৃহস্পতিবার সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা https://thedailyannadiganta.com/archives/2390 https://thedailyannadiganta.com/archives/2390#respond Wed, 17 Jul 2024 15:55:33 +0000 https://thedailyannadiganta.com/?p=2390 কোটা সংস্কারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
বুধবার (১৭ এপ্রিল) রাত পৌনে ৮টায় সংগঠনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক পোস্টে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল হাসপাতাল ও জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো যানবাহন চলবে না বলেও জানানো হয়।
পোস্টে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের ন্যাক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত ও এক দফা দাবিতে আগামীকাল (১৮ জুলাই) সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করছি।
দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে কর্মসূচি সফল করতে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, শুধুমাত্র হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ব্যতীত কোনো প্রতিষ্ঠানের দরজা খুলবে না, অ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত সড়কে কোনো গাড়ি চলবে না। সারা দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাচ্ছি আগামীকালকের কর্মসূচি সফল করুন।
অভিভাবকদের উদ্দেশে বলা হয়ে, আমরা আপনাদেরই সন্তান। আমাদের পাশে দাঁড়ান, রক্ষা করুন। এই লড়াইটা শুধু ছাত্রদের না, দলমত নির্বিশেষে এদেশের আপামর জনসাধারণের।
প্রসঙ্গত, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বেশ সহিংস রূপ নেয়। এদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ৬ জন মারা যান। আহত হন কয়েকশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/2390/feed 0