বাসস – দৈনিক অন্যদিগন্ত https://thedailyannadiganta.com সত্য ও সুন্দরের খোঁজে প্রতিদিন Fri, 07 Apr 2023 09:28:27 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 https://thedailyannadiganta.com/wp-content/uploads/2023/04/cropped-onnodigonto_fav-32x32.jpg বাসস – দৈনিক অন্যদিগন্ত https://thedailyannadiganta.com 32 32 ভূমি অধিগ্রহণে অধিক টাকার আশায় টাঙ্গাইল-আরিচা মহাসড়কে দালান কোঠা নির্মাণের হিড়িক https://thedailyannadiganta.com/archives/1508 https://thedailyannadiganta.com/archives/1508#respond Fri, 07 Apr 2023 09:27:33 +0000 http://thedailyannadiganta.com/?p=1508
চলতি বছরের জুন মাসের আগেই আরিচা-বরঙ্গাইল-ঘিওর-দৌলতপুর-নাগরপুর ও টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা হবে সড়কের দু’পাশের জমি। এ খবর পেয়েই অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় এই আঞ্চলিক মহাসড়কের দু’পাশে রাতারাতি গড়ে উঠছে অসংখ্য স্থাপনা।
কয়েকটি দালালচক্র অনুমোদনহীনভাবে নি¤œমানের কাঁচামাল এবং ব্যবহার অযোগ্য পুড়াতন ও চিকন রড ব্যবহার করে নির্মাণ করছে এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা। এতে করে ভূমি অধিগ্রহণের মূল্য বৃদ্ধি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এসব ঘটনায় ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত মহাসড়কে নতুন নির্মানাধীণ দালান ও অবকাঠামো নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ করেছেন টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। তবে অনেকেই অভিযোগ করেছেন কতিপয় দালালচক্র জমির মালিকদের টাকা দিয়ে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণের আশায় এসব স্থাপনা ও অবকাঠামো নির্মাণ করছেন।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০২১ সালের (২৩ নভেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) অনুমোদন দিয়েছে আরিচা-বরঙ্গাইল-ঘিওর-দৌলতপুর-নাগরপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প। ৫৮ দশমিক ৫শ’ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৩৩ ফুট প্রশস্ত মহাসড়ক উন্নীতকরণের এই প্রকল্পে টাঙ্গাইল অংশে রয়েছে ৪০ কিলোমিটার এলাকা এবং মানিকগঞ্জ জেলার অংশে রয়েছে ১৮ দশমিক ৫শ’ কিলোমিটার। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৩৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু ভূমি অধিগ্রহণেই ধরা হয়েছে ছয়শ’ ৯৩ কোটি ৮ লাখ ৩১ হাজার টাকা। এই মহাসড়কে দুইটি আরসিসি গার্ডার, ১৫টি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও ১৯টি নতুন কালভার্ট ও সাতটি কালভার্ট সম্প্রসারণ করা হবে। বিগত ২০২২ সালের (১ জানুয়ারি) কাজ শুরু হয়ে আগামী ২০২৫ সালের (৩১ ডিসেম্বর) নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এখনো প্রকল্পটির নির্মাণ কাজই শুরু হয়নি। চলতি বছর থেকেই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এই মহাসড়ক উন্নীতকরনের কাজ। মহাসড়ক আইন অনুযায়ী সড়কের দু’পাশের অন্তত ১০ মিটার দূরত্বে স্থাপনা নির্মাণের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কেউ নিয়মের তোয়াক্কাই করছে না। টাঙ্গাইল-আরিচা প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের সময় সরকার থেকে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ লাভের আশায় মহাসড়কের দুপাশে স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে বাড়ি-ঘর ও মার্কেট। মহাসড়ক হওয়ার খবর শুনেই বিগত দুই থেকে তিনমাস যাবৎ চলছে এসব স্থাপনা তৈরির কাজ। এছাড়াও ভূমি উচ্চ মুল্যে ক্রয়-বিক্রয় করে ওই মৌজার গড়মূল্য বৃদ্ধি করছে। ফলে ভূমির অধিগ্রহণ মূল্যে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অধিগ্রহণের মূল্য বৃদ্ধি পেলে অনুমোদিত প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় বৃদ্ধি এবং ভূমি অধিগ্রহণ খাতে অতিরিক্ত টাকার প্রয়োজন হবে। এতে করে সময়মত প্রকল্প বাস্তবায়ন আটকে যেতে পারে।
এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবুল হাসেম গত (১৯ জানুয়ারি) আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে নতুন দালান ও অবকাঠামো নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার পরও প্রায় শতাধিক স্থাপনার নির্মাণ কাজ চলছে।
স্থানীয়রা জানান- ঢাকা থেকে একটি দালালচক্র এসে মহাসড়কের পাশে যাদের বাড়ি রয়েছে তাদের বুঝিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্ধেক টাকা দেওয়ার শর্তে স্থাপনা ও অবকাঠামো নির্মাণ করছে। নি¤œমানের কাঁচামাল দিয়ে রাতারাতি গড়ে উঠা এসব স্থাপনার ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। কোন প্রকার নিয়মের তোয়াক্কা না করেই এসব স্থাপনা নির্মাণের ফলে অধিগ্রহণের সময় আর্থিকভাবে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।
মহাড়কের প্রায় ৩০ কিলোমিটার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের আটিয়া ইউনিয়নের সিলিমপুর থেকে শুরু হয়েছে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ। সিলিমপুর বেবিস্ট্যান্ডে মজনু মিয়া, কেজি স্কুলের পাশে বালু ও ইট ব্যবসায়ী লালচান মিয়া, আজগড় আলী, লিটন মিয়া গত দুই মাসে পাকা দালান নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও সিলিমপুর বেবিস্ট্যান্ড থেকে একটু এগিয়ে গেলেই চোখে পড়বে বিশাল দোতলা দালান। ওই দালানের মালিক এনজিও কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। এলাসিন মওলানা ভাসানী ডিগ্রি কলেজের একটু আগে ঠাকই জোড়া এলাকায় রাস্তা ঘেষেই নির্মাণ করা হয়েছে দোতলা ও একতলা দুটি দালান। ক্ষতিপূরণের টাকার অর্ধেক দেয়ার শর্তে জয়নাল শিকদারকে ওই দালান নির্মাণ করে দিয়েছেন নাটিয়াপাড়া এলাকার একজন দালাল। তার নাম মৃনাল। ওই বাড়ির এক গৃহিনী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তার শ^শুরকে দালালচক্রটি নানাভাবে বুঝিয়ে দালান করে দিয়েছে। তারা বলেছেন, আপনিও লাভবান হবেন আমরাও লাভবান হবো। জমিতো সরকার নিয়ে যাবে। পরে তো কিছু পাবেন না। ওই দালালচক্রটি আলামিন, আনোয়ার, মিলন, বুদ্দু, লিয়াকত হাতেম, সাইফুল, মহব্বত, মজিবুর, এরশাদ, নজরুল, দানেজ ও আলী হোসেনের জমিতে টাকা দিয়ে পাকা দালান করে দিয়েছে। এলাসিন ঘাটপার এলাকায় যুগল নামের এক ব্যক্তি গত কয়েকদিনে একতলা দালান উঠিয়েছেন। ছানু নামের অপর ব্যক্তি দিয়েছেন বিশাল লম্বা দেয়ালের টিনশেড ঘর। নাগরপুরে মহাসড়কের পাশে খোরশেদ মার্কেট ও ডাঙ্গা এলাকায় আবিদ ইটভাটার মালিক শহিদ মিয়া ও কয়েকজনে মিলে অন্তত ১০ থেকে ১২টি দোতলা ও একতলা দালান নির্মাণ করেছেন।
সহবত ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার ইব্রাহিম মিয়া এমপি রোডের মাথায় রাস্তার সাথে অবৈধভাবে একতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। নির্মাণাধীন ওই ভবনের শ্রমিক জানান, এক মাস আগে ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এই ভবন নির্মাণের টাকা মেম্বারকে ঢাকার এক ব্যক্তি দিয়েছেন। শুনেছি ক্ষতি পুরণের টাকা পেলে তিনি অর্ধেক নিবেন। ঠাকই জোড়া গ্রামের ওবায়দুল্লাহ মিয়া বলেন, রাস্তার পাশেই আমার ২০ শতাংশ জমিতে বাড়ি। ঢাকা থেকে কয়েক ব্যক্তি প্রাইভেটকার নিয়ে এসে আমাকে তাগাদা দিচ্ছে। বলছে চাচা আপনার বাড়িতে দোতলা একটি দালান করে দেই। আপনার কোন টাকা লাগবে না। অধিগ্রহণের টাকা পেলে আপনি পাবেন অর্ধেক আর আমরা অর্ধেক। আমি তাতে রাজি হইনি।
আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক বলেন, মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণের অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণের আশায় কিছুদিন ধরে রাতারাতি একতলা থেকে ৪ তলাবিশিষ্ট এসব ভবন নির্মিত হচ্ছে। এতে মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণের সময় সরকারের বাড়তি অর্থ ব্যয় হবে। প্রকৃত জমির মালিকরা একটা নির্দিষ্ট কমিশন পেলেও সরকারের মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেবে জড়িত এসব দালাল চক্রের সদস্যরা।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবুল হাসেম বলেন, ভূমি অধিগ্রহণভুক্ত জমিতে নতুন করে কেউ যাতে অবকাঠামো নির্মাণ করতে না পারে তার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। এছাড়াও ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পুরো মহাসড়কের ভিডিও রেকর্ডিং রয়েছে। নতুন করে যারা স্থাপনা করেছেন সেগুলোর ভিডিও করা হবে। যারা অধিক টাকার আশায় ভবন নির্মাণ করছেন তারা কেউ ক্ষতিপুরণ পাবেন না।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিউল হোসেন জানান, প্রকল্প প্রস্তাবের সময় সড়কের পাশের আগের অবস্থা ভিডিও রেকর্ডিং করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। নতুন করে সড়কের পাশে কেউ স্থাপনা নির্মাণ করলেও সে কোন ক্ষতিপুরণ পাবে না। চলমান এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে চিঠি দেয়া হয়েছে। জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভায় সিদ্ধান্তের পরই ভূমি অধিগ্রহণ শুরু হবে।
]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/1508/feed 0
প্রবাসীদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর https://thedailyannadiganta.com/archives/962 https://thedailyannadiganta.com/archives/962#respond Wed, 08 Mar 2023 02:58:06 +0000 http://thedailyannadiganta.com/?p=962 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসী বাংলাদেশীদের তারা যে দেশের জন্য কাজ করেন, সেসব দেশের আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। আইনভঙ্গ করে কেউ কোন অপরাধে যুক্ত হলে বাংলাদেশ তাদের বাঁচাতে ন্যূনতম প্রচেষ্টাও চালাবে না বলে সতর্কবার্তাও উচ্চারণ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আজ এখানে বাংলাদেশ এমএইচ স্কুলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোন ব্যক্তির অপরাধে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে এটা আর বরদাস্ত করা হবে না।
তিনি বলেন, যে দেশে থাকবেন সে দেশের আইন মেনে চলতে হবে। যেমন- আপনি কাতারে আছেন, এদেশের যেটা প্রলিত আইন সেটা আপনাদের অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
সরকার প্রধান বলেন, কেউ যদি এই আইন ভঙ্গ করেন বা আইন ভঙ্গ করে কোন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন সেই দায় দায়িত্ব কিন্ত আমরা (সরকার) নেব না, কেউ নেবে না। যে দেশে অবস্থান করেন সেই দেশের আইন যদি না মানেন তাহলে সেদেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে এবং এটা সবাইকে মাথায় রাখতে হবে। কোন অপরাধির দায়িত্ব সরকার নেবে না।
“কেউ যদি কোন আপরাধে জড়িয়ে পড়েন তাহলে সেটা থেকে কিন্তু আমরা উদ্ধার করার কোন চেষ্টা করবো না, কোন ব্যবস্থাও নেব না, সেটা স্পষ্ট বলে দিচ্ছি,” যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, একজনের জন্য অন্য মানুষগুলো কষ্ট পায়। তাদের বিপদ হয়। সেজন্য আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েই লোক পাঠাতে চাই। যে প্রশিক্ষণটাও অনেকে ঠিকভাবে নেন না।
ট্রেনিংয়ের সময়কার টাকাটা নিয়ে অনেকে ঘুষ দিয়ে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন মর্মে তথ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্তত সকলকে এই বার্তাটা পৌঁছে দেবেন এখানে কেউ যদি কোন অপরাধ করেন সেই অপরাধের দায় দায়িত্ব বাংলাদেশ নেবে না। এটা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই। কারণ, আমাদের এসব কথা শুনতে হয়। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এবং প্রবাসে লোক পাঠাবার যে সুযোগটা আমরা পাই সে সুযোগটাও হারিয়ে যায়। আরও ১০টি মানুষের কাজের যে সুযোগটা থাকে সেটা তারা পায় না। একটি মানুষের অপরাধের জন্য অন্য মানুষ শাস্তি পায়, বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ায় আপনারাও বুক ফুলিয়ে বলতে পারেন আমার দেশ বাংলাদেশ। সেখানে কারো কোন অপরাধের কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে এটা কিন্তু মেনে নেয়া যায় না। এটা সহ্য করা যায় না।
তাঁর চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই এবং এতিম ও নিঃস্ব, রিক্ত হয়ে দেশে এসেছেন (’৭৫ এ জাতির পিতাকে হত্যার পর ছয় বছর প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য হয়ে) কেবল দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য।
তিনি বলেন, ‘আজকে অন্তত এটুকু বলতে পারি দেশের মানুষের জন্য দু’বেলা দু’মুঠো খাবার ব্যবস্থাটা করতে পেরেছি। তাদের জীবন মান উন্নত করার পদক্ষেপ নিয়েছি। গৃহহীনকে ঘরবাড়ি করে দিচ্ছি, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছি, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি, রাস্তা-ঘাট যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বৈধ পথে দেশে টাকা পাঠানোর জন্য প্রবাসীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সামান্য একটু বেশি পাওয়ার লোভে অনেক সময় বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। সেটা আপনাদের বিবেচনায় থাকা উচিত।
এ সময় ধোকায় পড়ে বিদেশে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার না হয়ে তার সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে প্রশিক্ষণ নিয়ে বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার জন্যও সকলকে পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি তাঁর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরে আজকে বাংলাদেশে শবে বরাতের রাত হওয়ায় সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ তথা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ারও দৃঢ় প্রত্যয় পুণর্ব্যক্ত করেন।

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/962/feed 0
বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করেছে জাতি https://thedailyannadiganta.com/archives/596 https://thedailyannadiganta.com/archives/596#respond Tue, 21 Feb 2023 12:45:47 +0000 http://thedailyannadiganta.com/?p=596 বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের দাবির মধ্য দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করেছে সমগ্র জাতি।
ভাষা শহীদের শ্রদ্ধা জানাতে ফুল হাতে স্মৃতির মিনারে জড়ো হন আপামর জনতা। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি নানা শ্রেণিপেশার মানুষের শ্রদ্ধার ফুলে ভরে উঠেছে শহীদ বেদি।
আজ মঙ্গলবার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে দেশকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় জানান অনেকে।
মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালন উপলক্ষে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একুশের প্রথম প্রহরেই হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। ফুলে ফুলে ভরে উঠে বাঙালির শোক আর অহংকারের এই মিনার।
রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় অমর একুশের কালজয়ী গান-‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বাজানো হয়।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুনরায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সংসদ উপনেতা ও সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, কামরুল ইসলাম, এ এইচ এম খাইরুজ্জমান লিটন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান ও ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহা উদ্দিন নাছিম ও ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আফজাল হোসেন ও সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া, প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, তিন বাহিনীর প্রধানগণ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এরআগে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শহীদ মিনারে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান।
পরে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার পক্ষে জাতীয় পার্টির নেতা জি এম কাদের কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
তারও পরে পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানগণ, র‌্যাব, বিজিবি, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলমনাই এসোসিয়েশন,জাসদ নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এর আগে বুধবার মধ্য রাতে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের অগণিত মানুষ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় উপস্থিত হন।
এসময় হাজার হাজার মানুষ খালি পায়ে বুকে শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ ধারণ করে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারিÑআমি কি ভুলিতে পারি’- গানে কণ্ঠ মিলিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে এগিয়ে যান। একই সাথে তারা সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের এবং অন্যান্য জাতিসত্তার ভাষা ও বর্ণমালা সংরক্ষণের দাবি জানান।
এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও সিনেট সদস্য, সেক্টরস কমান্ডার্স ফোরাম, গণফোরাম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, আওয়ামী যুব লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, বাংলা একাডেমি, জাতীয় প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, শিল্পকলা একাডেমী, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ভাষা শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে সকালে দলের পক্ষ থেকে প্রভাতফেরী সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে অনেক বিদেশী নাগরিককে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গেছে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। আজ ছিল সরকারী ছুটির দিন।
‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রভাতফেরি সহকারে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার দাবীতে রাস্তায় নেমে আসে মানুষ, জারি হয় ১৪৪ ধারা, ভেঙে ফেলা হয় শোষকের শৃঙ্খল। রক্তে ভেসে যায় রাজপথ। গুলিতে বিদীর্ণ হয় বুক। শহীদ হন রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ নাম না জানা আরো অনেকে। ভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে ইতিহাস গড়েন তারা। বাংলা পায় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একাত্তরে জন্ম নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।
মাতৃভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গের এই দিনটিকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দেয় ১৯৯৯ সালে। অমর একুশে এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের চেতনার প্রতীক ‘শহীদ মিনার’ এখন এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ সব মহাদেশের বহুভাষিক চেতনার স্মারক।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রাজধানীর স্কুল-কলেজ ও পাড়া-মহল্লায়ও ছিল নানা আয়োজন। অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সবাই। এই শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় বেঁচে থাকবে আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। এসব আয়োজনে শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/596/feed 0