রমজান – দৈনিক অন্যদিগন্ত https://thedailyannadiganta.com সত্য ও সুন্দরের খোঁজে প্রতিদিন Fri, 17 Feb 2023 05:03:53 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 https://thedailyannadiganta.com/wp-content/uploads/2023/04/cropped-onnodigonto_fav-32x32.jpg রমজান – দৈনিক অন্যদিগন্ত https://thedailyannadiganta.com 32 32 রমজানে দামে ভোগাতে পারে বিশেষ পাঁচ নিত্যপণ্য https://thedailyannadiganta.com/archives/441 https://thedailyannadiganta.com/archives/441#respond Fri, 17 Feb 2023 05:02:51 +0000 http://thedailyannadiganta.com/?p=441 আসন্ন রমজান মাসে বিশেষ পাঁচ নিত্যপণ্য ভোজ্য তেল, ছোলা, ডাল, চিনি ও খেজুরের সরবরাহ ঠিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ডলারের দাম বাড়ায় গত বছরের তুলনায় এসব পণ্যের দাম ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বাড়তে পারে। এসব তথ্য জানিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলছে, রমজানে বহুল ব্যবহৃত নিত্যপণ্যের সরবরাহ বা মজুদে ঘাটতি নেই।
সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুসারে, গত এক বছরের ভোজ্য তেল, চিনি, ছোলা ও ডালের দাম বাড়লেও খেজুরের দাম বাড়েনি। তবে বাজার ঘুরে খেজুরের দাম কার্টনপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি পাওয়া গেছে। গত এক সপ্তাহে এই দাম বেড়েছে বলে বিক্রেতারা জানান। চিনির দাম বেড়েছে ৪৮ শতাংশের বেশি।
বাজারে পণ্য সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও ঘাটতি তৈরির পেছনে ক্রেতাদের বিশেষ কোনো পণ্য কেনার ধুমকে (প্যানিক বায়িং) বেশি দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। অর্থাৎ ক্রেতাদের মধ্যে যদি এই ধারণা হয় যে নির্দিষ্ট কোনো পণ্য সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেবে, তখন ওই পণ্য কিনতে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এতে ঘাটতি সংকটের আশঙ্কা না থাকলেও সংকট সৃষ্টি হয়।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের যৌক্তিক সুপারিশ আমদানিকারকরা না মানায় ভোক্তারা ঠকছে। ফলে পণ্যের ঘাটতি না থাকলেও ব্যবসায়ীদের মুনাফাবাদী মানসিকতায় ভোক্তারা ভুগছে।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম শফিকুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, বাজারে রমজানে বহুল ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বা মজুদে কোনো ঘাটতি নেই। কখনো কখনো অসাধু ব্যবসায়ীরা যোগসাজশ করে পণ্যের দাম বাড়ায়, যাতে বাজার অস্থিতিশীল হয়। এ ছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে গত বছরের তুলনায় এবারের রোজায় পণ্যদর ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, এবার রমজানে পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে ভোক্তা অধিকার তার প্রচলিত কার্যক্রম ছাড়াও পণ্যের অতিরিক্ত দাম বা কারচুপি করা হলে ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির কমিটিকেও শাস্তির আওতায় আনবেন, প্রয়োজনে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কয়েকটি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, রমজানে বহুল ব্যবহৃত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল (বোতল) ডিলার পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮৩ টাকা আর খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করছে ১৮৬ টাকা। খুচরা বাজারে পাঁচ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা। পাইকারি বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে ৮৭০ থেকে ৮৮০ টাকা।
এ ছাড়া চিনি পাইকারি বিক্রি হয়েছে ১০৯ টাকা আর খুচরা ১১৫ টাকা, ডাল পাইকারি ১৩২ টাকা আর খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা। ছোলা পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি করছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা আর খুচরা বাজারে ১১০ টাকা।
শান্তিনগর বাজারের মতলব স্টোরের রফিক মিয়া বলেন, রোজায় বিক্রি হয় এমন সব পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও আমদানি কম । তিনি বলেন, ডলার সংকটের কারণে কিছু পণ্য সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে এবং বাজারে দামও বেশি। তবে সবচেয়ে বেশি পণ্যের ঘাটতি তৈরি হলে ভোক্তারা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এতে পণ্যের দামও নাগালের মধ্যে থাকে না। রফিক মিয়া বলেন, খেজুর আর চিনির বাজারে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে।
একই বাজারের সিরাজ ফুডের বিক্রয়কর্মী মো. মিরাজ মিয়া বলেন, রোজায় যে খেজুর বেশি চলে, এর মধ্যে মরিয়ম অন্যতম। বর্তমানে এই খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজিতে। এক মাস আগেও ছিল ৬০০ টাকা। তাঁর আশঙ্কা, এই খেজুর এক হাজার টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে আমদানি সহজ করা হলে দাম কমতেও পারে। এ ছাড়া কুলের মতো আকৃতির আরেকটি খেজুর বেশি চলে । বর্তমানে এই খেজুরের দাম ২৮০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ২৬০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা ইউসুফ জেনারেল স্টোরের মালিক মো. ইউসুফ আলী কবির বলেন, চিনি সরবরাহে ঘাটতি হলেও সরকারি দর অনুসারে ১১২ টাকায় বিক্রি করছেন তাঁরা। এক মাস আগে প্রতি কেজি চিনি ছিল ১০৭ টাকা। সয়াবিন তেল এক লিটারের বোতল ১৮৫ টাকা, পাঁচ লিটার ৮৭০ থেকে ৮৮০ টাকা। আর খোলা সয়াবিন প্রতি কেজি ১৯০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
ইউসুফ আলী কবির বলেন, রোজার মৌসুম এখনো শুরু হয়নি বলে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। এক মাস আগেও ৮০ থেকে ৮৫ টাকা ছিল। এ ছাড়া দেশি ডাল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা, ভারত থেকে আনা ডাল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের মিজান স্টোরের মালিক মিজানও একই তথ্য দেন।
খেজুরের বিষয়ে মকবুল স্টোরের জসিম উদ্দিন বলেন, এলসি ও ডলার সংকটের ফলে খেজুরের দাম বাড়ছে। পাইকারি বাজারে গত এক সপ্তাহে কার্টনপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে। বাজারে ৫, ১০ ও ২০ কেজি ওজনের কার্টন পাওয়া যায়। এক মাস আগে মরিয়ম খেজুর ছিল প্রতি কেজি ৮২০ টাকা, বর্তমানে ৯৫০ টাকা। এ ছাড়া মাঝারি মানের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়। এই খেজুর এক মাস আগেও ছিল ৭৩০ টাকা। কুল খেজুর ছিল ১৮০ টাকা, যা ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

]]>
https://thedailyannadiganta.com/archives/441/feed 0
রমজান সামনে রেখে তেল-ডাল কিনছে টিসিবি https://thedailyannadiganta.com/archives/401 https://thedailyannadiganta.com/archives/401#respond Wed, 15 Feb 2023 13:53:33 +0000 http://thedailyannadiganta.com/?p=401
  • সয়াবিন তেল: এক কোটি ১০ লাখ টন; মসুর ডাল: আট হাজার টন
  • ক্রয় প্রক্রিয়ায় টিসিবির খরচ হবে ২৬৫ কোটি টাকার বেশি
  • ১৭৬ টাকায় কিনে ফ্যামিলি কার্ডধারীদের ১১০ টাকায় সয়াবিন তেল দিচ্ছে টিসিবি
  • পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য এক কোটি ১০ লাখ টন সয়াবিন তেল এবং আট হাজার টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে খরচ হবে ২৬৫ কোটি ৪০ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। গতকাল বুধবার এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ক্রয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সিদ্ধান্তসমুহ গণমাধ্যমকে জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান।
    তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আজ সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড থেকে এক কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হবে ১৯১ কোটি ৯৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য এ সয়াবিন তেল কেনা হবে। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৭৪ টাকা ৫০ পয়সা। আগের ক্রয় মূল্য ছিল ১৭৬ টাকা ৮০ পয়সা।
    সাঈদ মাহবুব খান বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্য একটি প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে তুরস্কের আরবিল বাকলিয়াত হুবুবাত সান্তিক কোম্পানি থেকে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৮ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মসুর ডাল আমদানিতে খরচ হবে ৭৩ কোটি ৪৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। প্রতি টন মসুর ডালের দাম পড়বে ৮৫৮ মার্কিন ডলার।
    এর আগে গত ৮ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এক কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ও ৮ হাজার টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। তেল কিনতে ১৯৪ কোটি ৫৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং মসুর ডাল কিনতে ৭৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। প্রতি লিটার তেলের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৭৬ টাকা ৮৮ পয়সা। মেঘনা এডিবল অয়েল রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে এ তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যদিকে প্রতি কেজি ডাল কিনতে খরচ ধরা হয় ৯১ টাকা ৬০ পয়সা। তুরস্কের আরবিল বাকলিয়াত হুবুবাত সান্তিক থেকে এ ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট বিআইএনকিউ। তারও আগে ১ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় জরুরি ভিত্তিতে টিসিবি কর্তৃক স্থানীয়ভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এক কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেয়া হয়। এতে খরচ ধরা হয় ১৯৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
    এ ছাড়া গত ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় টিসিবির জন্য ১০ লাখ টন সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। শুন শিং এডিবল ওয়েল লিমিটেডের কাছ থেকে ২০০ কোটি ২০ লাখ টাকায় এ তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সেনা এডিবল অয়েল ইন্ডাস্টির কাছ থেকে ৪৪ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয় ৮১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি লিটারের দাম ধরা হয় ১৮৪ টাকা ৫০ পয়সা। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে শুন শিং এডিবল অয়েল লিমিটেড থেকে ৫৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেয় সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা। এ জন্য ব্যয় ধরা হয় ১০১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি লিটারের দাম ধরা হয় ১৮৪ টাকা ৫০ পয়সা।
    এছাড়া ওই সভায় আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ওমানের জাদ আল রাহিল ইন্টারন্যাশনাল এলএলসি সুলতানাত থেকে এক কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এ জন্য ব্যয় ধরা হয় ১৫১ কোটি ৭৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি লিটারের জন্য খরচ ধরা হয় ১৩৭ টাকা ৯৪ পয়সা। অন্যদিকে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে আরবেল বাকলিয়াত হুবুবাত সান্তিক এএস থেকে ৮ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এ জন্য ব্যয় ধরা হয় ৮১ কোটি ৫৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। আরবেল বাকলিয়াত হুবুবাত সান্তিক এএস এর লোকাল এজেন্ট বিআইএনকিউ।
    ফ্যামিলি বা পরিবার কার্ডের আওতায় একজন কার্ডধারীর কাছে সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি ও দুই কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১১০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা, এক কেজি মসুর ডাল ৬৫ টাকা ও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে শুধু সিটি করপোরেশন এলাকা ও টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোয়।

    ]]>
    https://thedailyannadiganta.com/archives/401/feed 0