১১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তবে অভিযোগ আছে চার ইউপিতে নৌকাকে ঠেকাতে তৎপর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

জীবননগরে ছয় ইউপি নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা, ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে

আগামী ১৬ই মার্চ প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর, কেডিকে, হাসাদাহ, রায়পুর, বাঁকা ও উথলী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে শেষ সময়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। গোটা এলাকা ছেয়ে গেছে পোস্টার ও ফেস্টুনে। নির্বাচনে বিজয় লাভে প্রার্থীরা দিচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি, বলছেন উন্নয়নমূলক কাজের কথা।
জানা যায়, জীবননগর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ২৭ জন, সাধারণ সদস্য পদে ১৭৪ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ৫৫ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন। এ নির্বাচনে বিএনপি দলীয়ভাবে প্রার্থী না দিলেও নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও একাধিক ইউপিতে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তবে এবার নির্বাচনে গুঞ্জন উঠেছে মনোহরপুর ও কেডিকে ইউনিয়ন ব্যতীত অন্য চারটি ইউনিয়নে নৌকাকে ঠেকাতে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সমর্থকেরা। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে বাঁধা দেওয়া, মাইকিং বন্ধ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক সময় নির্বাচন এলে চায়ের দোকান, পাড়া-মহল্লায় উৎসবের আমেজ থাকত। দল-মত নির্বিশেষে প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠে থাকতেন। কিন্তু বর্তমান নির্বাচনের সময়ে প্রার্থীদের পাশাপাশি ভোটাররা পিঠ বাঁচানোর জন্য প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হতে পারছেন না। নির্বাচনের সময় অযথা নিরীহ ভ্যানচালক, দিনমজুররা নেতাদের কাছে মারধর খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। প্রশাসন যেখানে নীরব, সেখানে এ নির্বাচন দেওয়ার চেয়ে না দেওয়ায় ভালো।
উথলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রাথী আবজালুর রহমান ধীরু বলেন, ‘নির্বাচন হওয়ার আগেই আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ও সমর্থকরা ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করছেন। প্রতিদিন রাতে বহিরাগত ব্যক্তিরা উথলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রবেশ করছে এবং হুমকি দিচ্ছে। নির্বাচনের আগেই যদি এমন হয়, তা হলে নির্বাচনের দিন কোনো ভোটার ভোট দিতে যাবে না। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিক। তাতে যে বিজয় লাভ করবে, সেটাই আমরা মেনে নেব।’ রায়পুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর শাহ অভিন্ন অভিযোগ করেন।
উথলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমার সমর্থকরা কোনো প্রার্থীরা প্রচারে কোনো প্রকার বাঁধা দেয়নি। বহিরাগত কেউ আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ করেনি বরং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের লোকজন আমার নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছে এবং তারা বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি প্রদান করছে।’ একই কথা বলেন বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল কাদের প্রধান।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল খালেক বলেন, জীবননগর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। নির্বাচন কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের সহিংসতা না হয়, সে জন্য পুলিশ তৎপর আছে।
জীবননগর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. মেজর আহম্মেদ বলেন, জীবননগর উপজেলায় এবার প্রথম ইভিএম’এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হবে না। ভোটাররা তাদের ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য নির্বাচন কমিশন সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৮৩ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে উথলী ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৫ হাজার ১৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৬১৪ জন এবং নারী ভোটার ৭ হাজার ৫৩৯ জন। কেডিকে ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৯৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৬৯২ জন এবং নারী ভোটার ৬ হাজার ৯০২ জন। মনোহরপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৩ হাজার ৪৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৭৮৩ জন ও নারী ভোটার ৬ হাজার ৬৭৮ জন। বাঁকা ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ১৪৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৫৮৪ জন ও নারী ভোটার ৭ হাজার ৫৬১ জন। হাসাদাহ ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৫ হাজার ৮৫৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৯০১ জন ও নারী ভোটার ৭ হাজার ৯৫৫ জন। রায়পুর ইউনিয়নে মোট ভোটার ১০ হাজার ২৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ হাজার ২৫৭ জন এবং নারী ভোটার ৫ হাজার ১৯ জন।

তবে অভিযোগ আছে চার ইউপিতে নৌকাকে ঠেকাতে তৎপর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

জীবননগরে ছয় ইউপি নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা, ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে

প্রকাশ : ০৩:১৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ ২০২৩

আগামী ১৬ই মার্চ প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর, কেডিকে, হাসাদাহ, রায়পুর, বাঁকা ও উথলী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে শেষ সময়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। গোটা এলাকা ছেয়ে গেছে পোস্টার ও ফেস্টুনে। নির্বাচনে বিজয় লাভে প্রার্থীরা দিচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি, বলছেন উন্নয়নমূলক কাজের কথা।
জানা যায়, জীবননগর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ২৭ জন, সাধারণ সদস্য পদে ১৭৪ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ৫৫ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন। এ নির্বাচনে বিএনপি দলীয়ভাবে প্রার্থী না দিলেও নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও একাধিক ইউপিতে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তবে এবার নির্বাচনে গুঞ্জন উঠেছে মনোহরপুর ও কেডিকে ইউনিয়ন ব্যতীত অন্য চারটি ইউনিয়নে নৌকাকে ঠেকাতে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সমর্থকেরা। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে বাঁধা দেওয়া, মাইকিং বন্ধ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক সময় নির্বাচন এলে চায়ের দোকান, পাড়া-মহল্লায় উৎসবের আমেজ থাকত। দল-মত নির্বিশেষে প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠে থাকতেন। কিন্তু বর্তমান নির্বাচনের সময়ে প্রার্থীদের পাশাপাশি ভোটাররা পিঠ বাঁচানোর জন্য প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হতে পারছেন না। নির্বাচনের সময় অযথা নিরীহ ভ্যানচালক, দিনমজুররা নেতাদের কাছে মারধর খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। প্রশাসন যেখানে নীরব, সেখানে এ নির্বাচন দেওয়ার চেয়ে না দেওয়ায় ভালো।
উথলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রাথী আবজালুর রহমান ধীরু বলেন, ‘নির্বাচন হওয়ার আগেই আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ও সমর্থকরা ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করছেন। প্রতিদিন রাতে বহিরাগত ব্যক্তিরা উথলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রবেশ করছে এবং হুমকি দিচ্ছে। নির্বাচনের আগেই যদি এমন হয়, তা হলে নির্বাচনের দিন কোনো ভোটার ভোট দিতে যাবে না। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিক। তাতে যে বিজয় লাভ করবে, সেটাই আমরা মেনে নেব।’ রায়পুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর শাহ অভিন্ন অভিযোগ করেন।
উথলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমার সমর্থকরা কোনো প্রার্থীরা প্রচারে কোনো প্রকার বাঁধা দেয়নি। বহিরাগত কেউ আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ করেনি বরং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের লোকজন আমার নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছে এবং তারা বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি প্রদান করছে।’ একই কথা বলেন বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল কাদের প্রধান।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল খালেক বলেন, জীবননগর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। নির্বাচন কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের সহিংসতা না হয়, সে জন্য পুলিশ তৎপর আছে।
জীবননগর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. মেজর আহম্মেদ বলেন, জীবননগর উপজেলায় এবার প্রথম ইভিএম’এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হবে না। ভোটাররা তাদের ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য নির্বাচন কমিশন সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৮৩ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে উথলী ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৫ হাজার ১৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৬১৪ জন এবং নারী ভোটার ৭ হাজার ৫৩৯ জন। কেডিকে ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৯৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৬৯২ জন এবং নারী ভোটার ৬ হাজার ৯০২ জন। মনোহরপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৩ হাজার ৪৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৭৮৩ জন ও নারী ভোটার ৬ হাজার ৬৭৮ জন। বাঁকা ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ১৪৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৫৮৪ জন ও নারী ভোটার ৭ হাজার ৫৬১ জন। হাসাদাহ ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৫ হাজার ৮৫৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৯০১ জন ও নারী ভোটার ৭ হাজার ৯৫৫ জন। রায়পুর ইউনিয়নে মোট ভোটার ১০ হাজার ২৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ হাজার ২৫৭ জন এবং নারী ভোটার ৫ হাজার ১৯ জন।