ঢাকা ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

২৬ ঘণ্টা পর সুন্দরবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

বাগেরহাটে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আমরবুনিয়ার লতিফের ছিলা এলাকায় লাগা আগুন ২৬ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
রোববার সুন্দরবনে আগুন লাগা এলাকা পরিদর্শন করে এ তথ্য জানান প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী।
তিনি বলেন, জ্বলতে থাকা আগুন এখন দৃশ্যমান নেই, পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। প্রায় পাঁচ একর এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়লে রাতভর অগ্নি নির্বাপণের জন্য ২০ জনের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। জীববৈচিত্রের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণের জন্য সোমবার উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হবে।
ফায়ার সার্ভিসের বাগেরহাটের উপসহকারী পরিচালক সাইদুল আলম চৌধুরী রোববার বিকেলে বলেন, আগুন এখন আয়ত্তে আছে। তবে পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনের আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের খুলনা, বাগেরহাটের বিভিন্ন স্টেশন থেকে যোগ দেয় ১০টি ইউনিট। নৌবাহিনীর মোংলা ঘাঁটির একটি ফায়ার ফাইটিং টিমও সকালে কাজ শুরু করে। বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে ছেটানো হয় পানি। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পাশের ভোলা নদীতে পাইপ সংযোগ দিয়ে, সেখানকার পানি বনের ভেতরে আগুনে ঢালছেন।
সুন্দরবনে প্রায়ই আগুন লাগে। গত ২২ বছরে অন্তত ২৫ বার সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা আগুনে পুড়েছে বলে এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবশ ও বন মন্ত্রণালয় জানায়, ওই আগুন গাছের উপরে বা ডালপালায় বিস্তৃত হয়নি, শুধু মাটির ওপরে বিক্ষিপ্তভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ঘটনাস্থলে বন বিভাগের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট, নৌবাহিনী, পুলিশ, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সিপিজি, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনগণ অগ্নি নির্বাপণে সহায়তা করেছে। এছাড়া, বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারও অগ্নি নির্বাপণে উপর থেকে পানি ছিটিয়ে সহায়তা করেছে।
শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সুন্দরবনে আগুন লাগার ঘটনা প্রথম উদঘাটিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অন্য প্রতিষ্ঠানের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বন বিভাগের কর্মীরা স্থানীয় কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপ, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় আগুন লাগার চারপাশে ফায়ার লাইন কাটার কাজ শুরু করেন। কিন্তু তখন ভাটার কারণে খালে পানি না থাকায় আগুনে পানি দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে রাতেই বন বিভাগের নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং ইকুপমেন্ট ও পানি দেয়ার মেশিনে এনে সেটি রেডি করে পাইপ লাগিয়ে সেট করে রাখা হয়। রোববার ভোরে বন বিভাগের কর্মীগণ , ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় জনগণ, সিপিজি, সিএমসির লোকদের নিয়ে আগুন লাগার স্থানে চারদিকে ফায়ার লাইন কাটার পাশাপাশি পানি দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ পুরোদমে শুরু করেন।
মন্ত্রণালয় জানায়, আগুন লাগার স্থানের চারদিকে প্রায় পাঁচ একর জায়গা জুড়ে ফায়ার লাইন কেটে আগুন নেভানোর কাজ করা হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আগামী কয়েক দিন এখানে অগ্নি নির্বাপণ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চলমান রাখা হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ সুন্দরবনের আগুন নির্বাপন কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি ও সমন্বয় করছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অবহিত আছেন এবং তিনি নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন বলেও জানায় মন্ত্রণালয়।
অপরদিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল জানায়, রোববার সকাল ছয়টা থেকে ছয়টি ফায়ার পাম্পের মাধ্যেমে রিলে সিস্টেম বজায় রেখে সুন্দরবন সংলগ্ন খাল হতে পানি নিয়ে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। তবে পাম্প বসানোর মতো কোনো জায়গা না থাকায় নৌকায় পাম্প বসিয়ে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ভোলা ও শেলা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন নেভাতে সংস্থাটির অফিসার ও কর্মচারীসহ মোট ৫৫ জন এবং প্রায় ২৫০ জন ভলান্টিয়ার অগ্নিনির্বাপণ কাজে নিয়োজিত ছিল।
এই আগুনের ঘটনাকে ‘বুশ ফায়ার’ জানিয়ে ফায়ার সার্ভিস জানায়, বিভিন্ন অংশে বিচ্ছিন্নভাবে এখনও আগুন ছড়িয়ে আছে। এর ব্যাপ্তি প্রায় দুই বর্গ কিলোমিটার।
পানির উৎস থেকে আগুনের দূরত্ব স্থানভেদে আড়াই কিলোমিটার উল্লেখ করে ফায়ার সার্ভিস জানায়, চলাচলের রাস্তা দুর্গম। জেলা প্রশাসন নিরাপত্তাজনিত কারণে রাতে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে আবারও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিরতি চুক্তিতে বাধা দেয়ার অভিযোগ

২৬ ঘণ্টা পর সুন্দরবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

আপডেট সময় : ০৯:২৬:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০২৪

বাগেরহাটে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আমরবুনিয়ার লতিফের ছিলা এলাকায় লাগা আগুন ২৬ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
রোববার সুন্দরবনে আগুন লাগা এলাকা পরিদর্শন করে এ তথ্য জানান প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী।
তিনি বলেন, জ্বলতে থাকা আগুন এখন দৃশ্যমান নেই, পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। প্রায় পাঁচ একর এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়লে রাতভর অগ্নি নির্বাপণের জন্য ২০ জনের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। জীববৈচিত্রের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণের জন্য সোমবার উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হবে।
ফায়ার সার্ভিসের বাগেরহাটের উপসহকারী পরিচালক সাইদুল আলম চৌধুরী রোববার বিকেলে বলেন, আগুন এখন আয়ত্তে আছে। তবে পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনের আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের খুলনা, বাগেরহাটের বিভিন্ন স্টেশন থেকে যোগ দেয় ১০টি ইউনিট। নৌবাহিনীর মোংলা ঘাঁটির একটি ফায়ার ফাইটিং টিমও সকালে কাজ শুরু করে। বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে ছেটানো হয় পানি। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পাশের ভোলা নদীতে পাইপ সংযোগ দিয়ে, সেখানকার পানি বনের ভেতরে আগুনে ঢালছেন।
সুন্দরবনে প্রায়ই আগুন লাগে। গত ২২ বছরে অন্তত ২৫ বার সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা আগুনে পুড়েছে বলে এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবশ ও বন মন্ত্রণালয় জানায়, ওই আগুন গাছের উপরে বা ডালপালায় বিস্তৃত হয়নি, শুধু মাটির ওপরে বিক্ষিপ্তভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ঘটনাস্থলে বন বিভাগের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট, নৌবাহিনী, পুলিশ, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সিপিজি, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনগণ অগ্নি নির্বাপণে সহায়তা করেছে। এছাড়া, বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারও অগ্নি নির্বাপণে উপর থেকে পানি ছিটিয়ে সহায়তা করেছে।
শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সুন্দরবনে আগুন লাগার ঘটনা প্রথম উদঘাটিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অন্য প্রতিষ্ঠানের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বন বিভাগের কর্মীরা স্থানীয় কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপ, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় আগুন লাগার চারপাশে ফায়ার লাইন কাটার কাজ শুরু করেন। কিন্তু তখন ভাটার কারণে খালে পানি না থাকায় আগুনে পানি দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে রাতেই বন বিভাগের নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং ইকুপমেন্ট ও পানি দেয়ার মেশিনে এনে সেটি রেডি করে পাইপ লাগিয়ে সেট করে রাখা হয়। রোববার ভোরে বন বিভাগের কর্মীগণ , ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় জনগণ, সিপিজি, সিএমসির লোকদের নিয়ে আগুন লাগার স্থানে চারদিকে ফায়ার লাইন কাটার পাশাপাশি পানি দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ পুরোদমে শুরু করেন।
মন্ত্রণালয় জানায়, আগুন লাগার স্থানের চারদিকে প্রায় পাঁচ একর জায়গা জুড়ে ফায়ার লাইন কেটে আগুন নেভানোর কাজ করা হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আগামী কয়েক দিন এখানে অগ্নি নির্বাপণ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চলমান রাখা হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ সুন্দরবনের আগুন নির্বাপন কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি ও সমন্বয় করছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অবহিত আছেন এবং তিনি নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন বলেও জানায় মন্ত্রণালয়।
অপরদিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল জানায়, রোববার সকাল ছয়টা থেকে ছয়টি ফায়ার পাম্পের মাধ্যেমে রিলে সিস্টেম বজায় রেখে সুন্দরবন সংলগ্ন খাল হতে পানি নিয়ে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। তবে পাম্প বসানোর মতো কোনো জায়গা না থাকায় নৌকায় পাম্প বসিয়ে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ভোলা ও শেলা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন নেভাতে সংস্থাটির অফিসার ও কর্মচারীসহ মোট ৫৫ জন এবং প্রায় ২৫০ জন ভলান্টিয়ার অগ্নিনির্বাপণ কাজে নিয়োজিত ছিল।
এই আগুনের ঘটনাকে ‘বুশ ফায়ার’ জানিয়ে ফায়ার সার্ভিস জানায়, বিভিন্ন অংশে বিচ্ছিন্নভাবে এখনও আগুন ছড়িয়ে আছে। এর ব্যাপ্তি প্রায় দুই বর্গ কিলোমিটার।
পানির উৎস থেকে আগুনের দূরত্ব স্থানভেদে আড়াই কিলোমিটার উল্লেখ করে ফায়ার সার্ভিস জানায়, চলাচলের রাস্তা দুর্গম। জেলা প্রশাসন নিরাপত্তাজনিত কারণে রাতে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে আবারও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।