ঢাকা ১১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বরগুনায়, স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন।

বরগুনায়, স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন।

বরগুনায় স্বামীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক স্ত্রী। ভুক্তভোগী গৃহবধূর নাম খাদিজা আক্তার (২৫), তিনি তালতলীর লালুপাড়া এলাকার মৃত মোতালেব খানের মেয়ে। এবং বরগুনা পৌরশহরের স্টেডিয়াম সড়কের রাসেল মিয়ার স্ত্রী।

শনিবার (১৫ এপ্রিল) বেলা এগারোটায় বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্বামী রাসেলের পরকীয়া ও যৌতুক দাবির অভিযোগ আনেন ওই গৃহবধূ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গৃহবধূ জানান, গত ১১/১০/২০১৮ ইং তারিখ রেজিস্ট্রার কাবিননামা মৌলের আনুষ্ঠানিকভাবে আমার বিবাহ হয়।বিবাহের পর আমার প্রিয় ভাইয়েরা সকলে মিলে প্রায় দুই লক্ষ টাকা পয়সা খরচ করিয়া আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাসেলের বাড়িতে তুলিয়া দেয় এবং রাসেলকে বিভিন্ন সময়ে দুই লক্ষ টাকা দেয়। অতঃপর আমিও রাসেল স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘর সংসার করতে থাকে। রাসেল ও আমি ঘর-সংসার করা কালীন সময় আমার গর্ভে রাসেলের ঔরসে প্রথম একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। কিছুদিন পর পুত্র সন্তান মারা যায়। তারপর আবার একটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে, নাম- রুকাইয়া, বয়স ২ বছর। আমার সন্তান বড় হতে না হতেই আমার স্বামী আমার বাড়ির পাশের বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের বাড়ির ভাড়াটিয়া বরগুনা সদর ব্র্যাক কর্মী মোসাম্মৎ সোনিয়া সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হওয়ার পর থেকেই আমার উপর বিভিন্ন রকম জুলুম ও নির্যাতন করে এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে যৌতুক দাবি করে সেই ব্র্যাক কর্মী আমাকে ফোনে হুমকি দিয়ে আমার সংসার ভাঙ্গার কথা বলে এবং রাসেলকে তার স্বামী বলে দাবি করে। এ বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য লোকজনকে জানাই এবং একাধিকবার এ বিষয় নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়েছে। পরবর্তীতে সোনিয়ার ভাড়াবাসায় তাদের দুজনকে এলাকাবাসী গত ৪/৪/২০২৩ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১২ ঘটিকার সময় বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এলাকার লোকজন আপত্তিকর অবস্থায় ঘরের মধ্যে ধরে ফেলে।পরবর্তীতে এলাকাবাসী আমাকে জানায়। রাসেল ও সোনিয়া নামের সেই মহিলার সাথে অবৈধ পরকীয়া প্রেমে আবদ্ধ হইয়া আমার কাছে আমার স্বামী রাসেল পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করিয়া আমাকে জ্বালা যন্ত্রণা ও বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। আমি অনুপায় হইয়া আমার বাড়ীতে আমার অভিভাবক দের কাছে যৌতুকের কথা জানাইলে গত ৬/৪/২০২৩ ইং তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার আনুমানিক ১০ ঘটিকার সময় বরগুনা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড, ৯৭ নং আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের মধ্যে বসিয়া আমার অভিভাবকরাও উক্ত যৌতুকের কথা রাসেল ও আমার শ্বশুর নুরুল ইসলামের কাছে জিজ্ঞাসা করিলে আমার স্বামী ও শ্বশুর আমার ও আমার অভিভাবকদের কাছে বিবাহের পন বাবদ আমার স্বামী ও শ্বশুর ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক চায়। আমিও আমার বৃদ্ধ মাতা ও আমার ভাইয়েরা আমার স্বামী ও শশুরকে তাদের দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করিলে আমার স্বামী ও শ্বশুর একত্রিত হইয়া এক বস্ত্রে আমার নাবালক সন্তান সহ আমাকে ঘর হইতে নামাইয়া দেয় এবং আমাদের বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে। ঘটনায় স্থানে এলাকার অনেক লোকজন জড়ো হয। সেই দিনই আমার স্বামীর বিরুদ্ধে বরগুনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করি এবং ব্র্যাক অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ করি। এ বিষয়ে সংবাদকর্মীরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে তারা এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। বর্তমানে নাবালক সন্তান সহ আমি আমার পিতার বাড়িতে অতিকষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছি। এ বিষয়ে আমি বরগুনা বিজ্ঞ চীপ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে, যার সি.আর- মামলা নাম্বার- ৪৬১/২০২৩ (বর)। গত ১০ তারিখ আমরা বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে বের হয় রাস্তায় আসার পরে রাসেল ও তার সন্ত্রাসী সঙ্গীরা আমার পথ অবরুদ্ধ করে এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে ও খুন-গুমের হুমকি দেয় এবং আমার মেয়েকে টানা হিছরে করে এবং আমাকে মামলা তোলার জন্য বিভিন্ন হুমকি প্রদর্শন করে।
পরে আমার বড় ভাই বাধা দিলে তাকে অকথ্য ভাষা ব্যবহার করে এবং আমাদের চিৎকারে লোকজন জড়ো হলে, রাসেল তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আমরা বরগুনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। এবং আমি এও জানতে পারি চরকলনীর সাইদুল কাজীর কাছে গিয়ে আমার স্বামী আমাকে যেন তিন মাস পিছনের তারিখে তালাক দিতে পারে সে জন্য তার কাছে যান রাসেল, কাজী সাহেব রাজি না হলে তাকে অনেকভাবে চাপ প্রয়োগ করে।
এ সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর কুপরামর্শে সোনিয়া আমার দায়ের করা মামলা আরাল করার লক্ষে এবং সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশের জেরে ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা যারা রাসেলের কু-কর্মের প্রতিবাদ করেছেন তাদেরসহ দুজনের সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করেন, আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এ বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিরতি চুক্তিতে বাধা দেয়ার অভিযোগ

বরগুনায়, স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন।

আপডেট সময় : ০৪:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৩

বরগুনায়, স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন।

বরগুনায় স্বামীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক স্ত্রী। ভুক্তভোগী গৃহবধূর নাম খাদিজা আক্তার (২৫), তিনি তালতলীর লালুপাড়া এলাকার মৃত মোতালেব খানের মেয়ে। এবং বরগুনা পৌরশহরের স্টেডিয়াম সড়কের রাসেল মিয়ার স্ত্রী।

শনিবার (১৫ এপ্রিল) বেলা এগারোটায় বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্বামী রাসেলের পরকীয়া ও যৌতুক দাবির অভিযোগ আনেন ওই গৃহবধূ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গৃহবধূ জানান, গত ১১/১০/২০১৮ ইং তারিখ রেজিস্ট্রার কাবিননামা মৌলের আনুষ্ঠানিকভাবে আমার বিবাহ হয়।বিবাহের পর আমার প্রিয় ভাইয়েরা সকলে মিলে প্রায় দুই লক্ষ টাকা পয়সা খরচ করিয়া আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাসেলের বাড়িতে তুলিয়া দেয় এবং রাসেলকে বিভিন্ন সময়ে দুই লক্ষ টাকা দেয়। অতঃপর আমিও রাসেল স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘর সংসার করতে থাকে। রাসেল ও আমি ঘর-সংসার করা কালীন সময় আমার গর্ভে রাসেলের ঔরসে প্রথম একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। কিছুদিন পর পুত্র সন্তান মারা যায়। তারপর আবার একটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে, নাম- রুকাইয়া, বয়স ২ বছর। আমার সন্তান বড় হতে না হতেই আমার স্বামী আমার বাড়ির পাশের বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের বাড়ির ভাড়াটিয়া বরগুনা সদর ব্র্যাক কর্মী মোসাম্মৎ সোনিয়া সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হওয়ার পর থেকেই আমার উপর বিভিন্ন রকম জুলুম ও নির্যাতন করে এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে যৌতুক দাবি করে সেই ব্র্যাক কর্মী আমাকে ফোনে হুমকি দিয়ে আমার সংসার ভাঙ্গার কথা বলে এবং রাসেলকে তার স্বামী বলে দাবি করে। এ বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য লোকজনকে জানাই এবং একাধিকবার এ বিষয় নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়েছে। পরবর্তীতে সোনিয়ার ভাড়াবাসায় তাদের দুজনকে এলাকাবাসী গত ৪/৪/২০২৩ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১২ ঘটিকার সময় বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এলাকার লোকজন আপত্তিকর অবস্থায় ঘরের মধ্যে ধরে ফেলে।পরবর্তীতে এলাকাবাসী আমাকে জানায়। রাসেল ও সোনিয়া নামের সেই মহিলার সাথে অবৈধ পরকীয়া প্রেমে আবদ্ধ হইয়া আমার কাছে আমার স্বামী রাসেল পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করিয়া আমাকে জ্বালা যন্ত্রণা ও বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। আমি অনুপায় হইয়া আমার বাড়ীতে আমার অভিভাবক দের কাছে যৌতুকের কথা জানাইলে গত ৬/৪/২০২৩ ইং তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার আনুমানিক ১০ ঘটিকার সময় বরগুনা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড, ৯৭ নং আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের মধ্যে বসিয়া আমার অভিভাবকরাও উক্ত যৌতুকের কথা রাসেল ও আমার শ্বশুর নুরুল ইসলামের কাছে জিজ্ঞাসা করিলে আমার স্বামী ও শ্বশুর আমার ও আমার অভিভাবকদের কাছে বিবাহের পন বাবদ আমার স্বামী ও শ্বশুর ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক চায়। আমিও আমার বৃদ্ধ মাতা ও আমার ভাইয়েরা আমার স্বামী ও শশুরকে তাদের দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করিলে আমার স্বামী ও শ্বশুর একত্রিত হইয়া এক বস্ত্রে আমার নাবালক সন্তান সহ আমাকে ঘর হইতে নামাইয়া দেয় এবং আমাদের বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে। ঘটনায় স্থানে এলাকার অনেক লোকজন জড়ো হয। সেই দিনই আমার স্বামীর বিরুদ্ধে বরগুনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করি এবং ব্র্যাক অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ করি। এ বিষয়ে সংবাদকর্মীরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে তারা এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। বর্তমানে নাবালক সন্তান সহ আমি আমার পিতার বাড়িতে অতিকষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছি। এ বিষয়ে আমি বরগুনা বিজ্ঞ চীপ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে, যার সি.আর- মামলা নাম্বার- ৪৬১/২০২৩ (বর)। গত ১০ তারিখ আমরা বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে বের হয় রাস্তায় আসার পরে রাসেল ও তার সন্ত্রাসী সঙ্গীরা আমার পথ অবরুদ্ধ করে এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে ও খুন-গুমের হুমকি দেয় এবং আমার মেয়েকে টানা হিছরে করে এবং আমাকে মামলা তোলার জন্য বিভিন্ন হুমকি প্রদর্শন করে।
পরে আমার বড় ভাই বাধা দিলে তাকে অকথ্য ভাষা ব্যবহার করে এবং আমাদের চিৎকারে লোকজন জড়ো হলে, রাসেল তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আমরা বরগুনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। এবং আমি এও জানতে পারি চরকলনীর সাইদুল কাজীর কাছে গিয়ে আমার স্বামী আমাকে যেন তিন মাস পিছনের তারিখে তালাক দিতে পারে সে জন্য তার কাছে যান রাসেল, কাজী সাহেব রাজি না হলে তাকে অনেকভাবে চাপ প্রয়োগ করে।
এ সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর কুপরামর্শে সোনিয়া আমার দায়ের করা মামলা আরাল করার লক্ষে এবং সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশের জেরে ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা যারা রাসেলের কু-কর্মের প্রতিবাদ করেছেন তাদেরসহ দুজনের সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করেন, আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এ বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।