ঢাকা ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ পাশের হার ৮৫ দশমিক ৯৫ শতাং জিপিএ-৫ এক লাখ ৭৬ হাজার ২৮২

২০২২ সালের উচ্চমাধ্যমিকসার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে পাসের হার ৮৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আর এইচএসসি নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন এক লাখ ৭৬ হাজার ২৮২ জন। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি জানান, ২০২১ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন এক লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ পরীক্ষার্থী, ২০২২ সালে সেটি কমে জিপিএ-৫ পেয়েছের এক লাখ ৭৬ হাজার ২৮২ জন। এ বছর মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১২ হাজার ৮৮৭ জন। ফলাফলে দেখা যায়, এ বছর অংশ নেওয়া মোট ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৮৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ছয় লাখ নয় হাজার ৫২২ ও ছাত্রী পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৫ জন। তাদের মধ্যে পাঁচ লাখ ১৫ হাজার ২৪৪ জন ছাত্র ও চার লাখ ৯৬ হাজার ৭৪৩ জন ছাত্রী পাস করেছেন। এর মধ্যে ৮০ হাজার ৫৬১ জন ছাত্র ও ৯৫ হাজার ৭২১ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ছাত্রের চেয়ে ১৫ হাজার ১৬০ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী এবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। ঢাকা বোর্ডে জিপিএ- ৫ পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪২১ জন। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ, জিপিএ- ৫ পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৭০ জন। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮১ দশমিক ৫৯ শতাংশ, জিপিএ- ৫ পেয়েছেন ২১ হাজার ৮৫৫ জন। সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮১ দশমিক ৪ শতাংশ, জিপিএ- ৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৭১ জন। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ, জিপিএ- ৫ পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৮৬ জন। যশোর বোর্ডে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৯ শতাংশ, এ প্লাস পেয়েছেন ১৮ হাজার ৭০৬ জন। দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৭৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ, এ প্লাস পেয়েছেন ১১ হাজার ৮৩০ জন। ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, এ প্লাস পেয়েছেন ৭ হাজার ১৭৯ জন। কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৯০ দশমিক ৭ শতাংশ, এ প্লাস পেয়েছেন ১৪ হাজার ৯৯১ জন। এ ছাড়া কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৯১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, এ প্লাস পেয়েছেন ৭ হাজার ১০৫ জন। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৯২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ প্লাস পেয়েছেন ৯ হাজার ৪২৩ জন। গত বছরের ৬ নভেম্বর শুরু হয়েছিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখের কিছু বেশি।
পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা: এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২০২২ এর ফলাফলে পাসের হারে ৮২ দশমিক ১৯ শতাংশ ছাত্র এবং ৮৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ ছাত্রী পাস করেছে। গতবার এ সংখ্যা ছিল ছাত্র ৮২দশমিক ১৯ শতাংশ এবং ছাত্রী ৮৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ফলাফলে দেখা যায়, দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিটিতেও চিত্র একই। প্রতিটি বোর্ডেই ছাত্রদের চেয়ে পাসের হারে এগিয়ে ছাত্রীরা। এ বছর অংশগ্রহণকারী মোট ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৮৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৯ হাজার ৫২২ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৫ জন। তাদের মধ্যে ৫ লাখ ১৫ হাজার ২৪৪ জন ছাত্র এবং ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৭৪৩ জন ছাত্রী পাস করেছে। শতকরা হারে ৮৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ ছাত্র এবং ৮৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ ছাত্রী পাস করেছে। নয়টি বোর্ডে ৮২ দশমিক ১৯ শতাংশ ছাত্র এবং ৮৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ ছাত্রী পাস করেছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯১ দশমিক ৪৮ শতাংশ ছাত্র ও ৯৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ ছাত্রী পাস করেছে। এই বোর্ডেও ছাত্রদের তুলনায় পাসের হারে ছাত্রীরাও এগিয়ে আছে।
পাসের হারে এগিয়ে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গ্রুপভিত্তিক তথ্যে পাসের হারে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বিজ্ঞান গ্রুপের ছাত্র-ছাত্রীরা। এর মধ্যে ছাত্রদের পাসের হার ৯১ দশমিক ৮ শতাংশ ও ছাত্রীদের পাসের হার ৯২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এবার সারাদেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞান গ্রুপ থেকে এক লাখ ২৫ হাজার ৮৩২ জন ছাত্র ও এক লাখ ১২ হাজার ৩৩ জন ছাত্রী অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্রদের পাসের হার ৯১ দশমিক ৮ শতাংশ ও ছাত্রীদের পাসের হার ৯২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। মানবিক গ্রুপে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে দুই লাখ ৪২ হাজার ৩১৬ জন ছাত্র ও তিন লাখ চার হাজার ৪৮৮ জন ছাত্রী। পাসের হারে এগিয়ে আছেন ছাত্রীরা। তাদের পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ছাত্রদের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ ছাড়া ব্যবসা শিক্ষা গ্রুপে পরীক্ষায় অংশ নেন এক লাখ ছয় হাজার ৩৭২ জন ছাত্র ও ৭৮ হাজার ২৯৭ জন ছাত্রী। এর মধ্যে ৮৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ ছাত্র ও ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছেন। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষায় সব মিলে ছাত্রদের পাসের হার ৮২ দশমিক ১৯ শতাংশ, ছাত্রীদের পাসের হার ৮৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। যা ছাত্রদের চেয়ে দুই দশমিক ৯৫ শতাংশ বেশি।
৩৩৪ শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নানা অনিয়মের কারণে ৩৩৪ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছেন। যা ২০২১ সালের চেয়ে ১৭৪ জন বেশি। ২০২১ সালে এইচএসসি ও সমমানে ১৬০ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছিলেন। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছিলেন ২০১৮ সালে। সে বছর ৮২৬ শিক্ষার্থী বহিষ্কার হন। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬৬১ জন। তবে ২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারির কারণে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। সে বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন করে তা প্রকাশ করা হয়েছিল।
৫০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল: এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছেন। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে। ২০২২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ৯ হাজার ১৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এরমধ্যে ১ হাজার ৩৩০ টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করলেও ৫০টি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে সবচেয়ে বেশি ফেল করা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১৩টি। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯টি, ঢাকায় ৮টি, যশোরে ৬টি, কুমিল্লায় ৫টি এবং ময়মনসিংহে ৩টি প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল করেছেন। এছাড়া ৪টি মাদ্রাসা ও ২টি টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিরতি চুক্তিতে বাধা দেয়ার অভিযোগ

এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ পাশের হার ৮৫ দশমিক ৯৫ শতাং জিপিএ-৫ এক লাখ ৭৬ হাজার ২৮২

আপডেট সময় : ১১:৩১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

২০২২ সালের উচ্চমাধ্যমিকসার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে পাসের হার ৮৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আর এইচএসসি নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন এক লাখ ৭৬ হাজার ২৮২ জন। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি জানান, ২০২১ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন এক লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ পরীক্ষার্থী, ২০২২ সালে সেটি কমে জিপিএ-৫ পেয়েছের এক লাখ ৭৬ হাজার ২৮২ জন। এ বছর মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১২ হাজার ৮৮৭ জন। ফলাফলে দেখা যায়, এ বছর অংশ নেওয়া মোট ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৮৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ছয় লাখ নয় হাজার ৫২২ ও ছাত্রী পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৫ জন। তাদের মধ্যে পাঁচ লাখ ১৫ হাজার ২৪৪ জন ছাত্র ও চার লাখ ৯৬ হাজার ৭৪৩ জন ছাত্রী পাস করেছেন। এর মধ্যে ৮০ হাজার ৫৬১ জন ছাত্র ও ৯৫ হাজার ৭২১ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ছাত্রের চেয়ে ১৫ হাজার ১৬০ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী এবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। ঢাকা বোর্ডে জিপিএ- ৫ পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪২১ জন। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ, জিপিএ- ৫ পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৭০ জন। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮১ দশমিক ৫৯ শতাংশ, জিপিএ- ৫ পেয়েছেন ২১ হাজার ৮৫৫ জন। সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮১ দশমিক ৪ শতাংশ, জিপিএ- ৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৭১ জন। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ, জিপিএ- ৫ পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৮৬ জন। যশোর বোর্ডে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৯ শতাংশ, এ প্লাস পেয়েছেন ১৮ হাজার ৭০৬ জন। দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৭৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ, এ প্লাস পেয়েছেন ১১ হাজার ৮৩০ জন। ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, এ প্লাস পেয়েছেন ৭ হাজার ১৭৯ জন। কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৯০ দশমিক ৭ শতাংশ, এ প্লাস পেয়েছেন ১৪ হাজার ৯৯১ জন। এ ছাড়া কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৯১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, এ প্লাস পেয়েছেন ৭ হাজার ১০৫ জন। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৯২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ প্লাস পেয়েছেন ৯ হাজার ৪২৩ জন। গত বছরের ৬ নভেম্বর শুরু হয়েছিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখের কিছু বেশি।
পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা: এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২০২২ এর ফলাফলে পাসের হারে ৮২ দশমিক ১৯ শতাংশ ছাত্র এবং ৮৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ ছাত্রী পাস করেছে। গতবার এ সংখ্যা ছিল ছাত্র ৮২দশমিক ১৯ শতাংশ এবং ছাত্রী ৮৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ফলাফলে দেখা যায়, দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিটিতেও চিত্র একই। প্রতিটি বোর্ডেই ছাত্রদের চেয়ে পাসের হারে এগিয়ে ছাত্রীরা। এ বছর অংশগ্রহণকারী মোট ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৮৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৯ হাজার ৫২২ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৫ জন। তাদের মধ্যে ৫ লাখ ১৫ হাজার ২৪৪ জন ছাত্র এবং ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৭৪৩ জন ছাত্রী পাস করেছে। শতকরা হারে ৮৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ ছাত্র এবং ৮৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ ছাত্রী পাস করেছে। নয়টি বোর্ডে ৮২ দশমিক ১৯ শতাংশ ছাত্র এবং ৮৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ ছাত্রী পাস করেছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯১ দশমিক ৪৮ শতাংশ ছাত্র ও ৯৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ ছাত্রী পাস করেছে। এই বোর্ডেও ছাত্রদের তুলনায় পাসের হারে ছাত্রীরাও এগিয়ে আছে।
পাসের হারে এগিয়ে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গ্রুপভিত্তিক তথ্যে পাসের হারে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বিজ্ঞান গ্রুপের ছাত্র-ছাত্রীরা। এর মধ্যে ছাত্রদের পাসের হার ৯১ দশমিক ৮ শতাংশ ও ছাত্রীদের পাসের হার ৯২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এবার সারাদেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞান গ্রুপ থেকে এক লাখ ২৫ হাজার ৮৩২ জন ছাত্র ও এক লাখ ১২ হাজার ৩৩ জন ছাত্রী অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্রদের পাসের হার ৯১ দশমিক ৮ শতাংশ ও ছাত্রীদের পাসের হার ৯২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। মানবিক গ্রুপে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে দুই লাখ ৪২ হাজার ৩১৬ জন ছাত্র ও তিন লাখ চার হাজার ৪৮৮ জন ছাত্রী। পাসের হারে এগিয়ে আছেন ছাত্রীরা। তাদের পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ছাত্রদের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ ছাড়া ব্যবসা শিক্ষা গ্রুপে পরীক্ষায় অংশ নেন এক লাখ ছয় হাজার ৩৭২ জন ছাত্র ও ৭৮ হাজার ২৯৭ জন ছাত্রী। এর মধ্যে ৮৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ ছাত্র ও ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছেন। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষায় সব মিলে ছাত্রদের পাসের হার ৮২ দশমিক ১৯ শতাংশ, ছাত্রীদের পাসের হার ৮৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। যা ছাত্রদের চেয়ে দুই দশমিক ৯৫ শতাংশ বেশি।
৩৩৪ শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নানা অনিয়মের কারণে ৩৩৪ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছেন। যা ২০২১ সালের চেয়ে ১৭৪ জন বেশি। ২০২১ সালে এইচএসসি ও সমমানে ১৬০ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছিলেন। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছিলেন ২০১৮ সালে। সে বছর ৮২৬ শিক্ষার্থী বহিষ্কার হন। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬৬১ জন। তবে ২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারির কারণে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। সে বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন করে তা প্রকাশ করা হয়েছিল।
৫০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল: এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছেন। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে। ২০২২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ৯ হাজার ১৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এরমধ্যে ১ হাজার ৩৩০ টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করলেও ৫০টি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে সবচেয়ে বেশি ফেল করা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১৩টি। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯টি, ঢাকায় ৮টি, যশোরে ৬টি, কুমিল্লায় ৫টি এবং ময়মনসিংহে ৩টি প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল করেছেন। এছাড়া ৪টি মাদ্রাসা ও ২টি টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছেন।